প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নিমতলী, চুড়িহাট্তা ও এফআর টাওয়ারের মতো অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১১ দফা সুপারিশ করেছে।
এ সংক্রান্ত সুপারিশগুলো রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘নিমতলী ট্র্যাজেডি : অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড থামবে কবে?’ শীর্ষক সেমিনারে তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির।
১১ দফা সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে: আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম ও ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পকারাখানাগুলোকে সম্পূর্ণ স্থানান্তর করতে হবে। জাতীয় রাসায়নিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে আধুনিকায়ন করতে হবে।
আইন ও বিল্ডিং কোডের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল লাইসেন্সিং ও নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের জন্য একটি জাতীয় ডেটাবেস ও প্রকাশ্য তালিকা তৈরি করতে হবে। ভবনের নিরাপত্তা সনদ বাধ্যতামূলক করতে হবে। জরুরি প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আইন বাস্তবায়নে সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অগ্নিদুর্যোগমুক্ত এবং নিরাপদ নগরায়ণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। নগর অগ্নি ও রাসায়নিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
সেমিনারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম মন্তব্য করেন, সমাজের শিক্ষিত এবং ধনী শ্রেণির নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের মূলগত পরিবর্তন সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র আর্থিক লোভের কারণে কিছু লোক আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউনের জন্য বাসা ভাড়া দেয়। এর ফলে সাধারণ মানুষ নিমতলী-চুড়িহাট্টার মতো অগ্নিদুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতার পাশাপাশি বিল্ডিং কোডের নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ দরকার।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন, দেশে যে কোনো দুর্ঘটনায় প্রথমেই ফায়ার সার্ভিস কাজ শুরু করে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সঠিক নীতিমালা মানা হয় না। অনুমোদন ৫ তলা থাকলেও বন্ধন করা হয় ১০ তলা। এটি রাজউক জানলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না। এখানে দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স দাবি করেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সরকারের সঠিক নীতিমালা তৈরি করা উচিত। পরিবেশ এবং জনবান্ধবতার কথা চিন্তা করে ঢাকাকে আর সম্প্রসারণ করা উচিত নয়। সিটি গভর্নমেন্টের নিয়ন্ত্রণে ঢাকাকে আনা প্রয়োজন। পরিবেশ ও জনবান্ধব উন্নয়নশীল ঢাকা গড়তে সঠিক ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধে বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জমান মজুমদার মন্তব্য করেন, শিল্পায়নের প্রসার, রাসায়নিকভিত্তিক ব্যবসায়ের বিস্তার এবং নগর জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর সাথে সঙ্গেই নিরাপদ রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, নগর পরিকল্পনা এবং আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে বিপুল পরিমাণ দাহ্য, বিস্ফোরক ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবহারের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরই নির্মম পরিণতি ছিল ২০১০ সালের নিমতলী কেমিক্যাল ট্র্যাজেডি। নিমতলী, চুড়িহাট্তা, বনানীর এফআর টাওয়ার, সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপো অথবা সাম্প্রতিক বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ড, সবকিছুই বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি নীতিগত ব্যর্থতা, দুর্বল নগর শাসন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার ধারাবাহিক প্রমাণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন