প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের ভেতরে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশি চাপ ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ইরানকে আরও বেশি স্বনির্ভর হতে হবে।
এ উদ্দেশ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করে ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খামেনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়া কেবল সরকারের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়। বিদেশি আর্থিক চাপ মোকাবেলা এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এটি একটি জাতীয় প্রয়োজন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন থেকে ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারকে সরিয়ে আনতে হবে। দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
খামেনি বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধানের প্রধান উপায় হলো দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর যতটা সম্ভব নির্ভর করা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি তার বিস্তারিত বক্তব্য প্রকাশ করেছে।
সেখানে বলা হয়েছে, দেশের ভেতরের উৎপাদন বৃদ্ধি করাই অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবেলার মূল চাবিকাঠি। তবে যদি কোনো পণ্য দেশের ভেতরে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি করতে হবে। খামেনি এ ক্ষেত্রে ‘সঠিকভাবে ও বিচক্ষণতার সঙ্গে’ আমদানি করার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, অর্থনীতির উন্নতির জন্য মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, পণ্য ও সেবার দাম এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিকভাবে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে শুধু বিনিয়োগ বৃদ্ধি করলেই হবে না, সেই অর্থ প্রয়োজনীয় ও উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করতে হবে বলেও জানান তিনি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের ব্যবহার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লেনদেনে ধীরে ধীরে ডলারের ভূমিকা কমাতে হবে। পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে এবং দেশের প্রয়োজনীয় খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। খামেনির মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে, যা বিদেশি চাপের ওপর কম নির্ভরশীল হবে। তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন। খামেনি বলেন, ইরানের শত্রুরা দেশটির জনগণকে বোঝাতে চায়, তাদের দাবি মেনে নিলেই অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ খুলবে। কিন্তু ইসলামী বিপ্লবের আগে ও পরে ইরান এবং দেশটির সম্পদের সঙ্গে ওই দেশগুলো কী আচরণ করেছে, তা দেখলেই এর বিপরীত চিত্র পাওয়া যায়।
খামেনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়াচ্ছে। ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছে। এর লক্ষ্য ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক যোগাযোগ আরো দুর্বল করা এবং দেশটির সরকারের অর্থের উৎস বন্ধ করা। খামেনির বক্তব্য প্রকাশের কিছুক্ষণ আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এই অভিযান পুরো শক্তিতে চালু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যাংক মেল্লির দুবাই শাখার ব্যবস্থাপক রেজা মোহাম্মদ তাইয়েদি এবং হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, হংকংভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠানটি ইরানের নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সহায়তা করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ব্যাংক মেল্লি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্স এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর রসদ মন্ত্রণালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের হয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে সহায়তা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অপরাধ দমন নেটওয়ার্ক নতুন একটি নিয়মের প্রস্তাব করেছে। এর মাধ্যমে ব্যাংক মিসর ইউএইর মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিনিধি ব্যাংকিং সুবিধা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্যাংক মিসর ইউএই ইরান সরকারের মার্কিন ডলার ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ইরান সরকার যখন জনগণের প্রয়োজনের চেয়ে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন ওয়াশিংটন তাদের অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার পথগুলো বন্ধ করবে। তিনি বলেন, ইরান সরকারের হয়ে অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে বিদেশে ইরানি ব্যাংকের হয়ে কাজ করা ব্যক্তিরাও থাকবেন। এর আগে ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরান সরকারকে সহায়তা করা অর্থের উৎস বন্ধ করে দেওয়া।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন