প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ ও মানসম্মত সবজির নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থানকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি অভিন্ন কর্মপন্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে ‘রপ্তানি প্রস্তুতির পথে, বাংলাদেশে: সবজি রপ্তানি খাতের প্রতিবন্ধকতা ও অঙ্গীকার’ শীর্ষক একটি অংশীজন গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।
বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশে বছরে প্রায় দেড় কোটি মেট্রিক টনের বেশি সবজি উৎপাদিত হলেও এর মাত্র ০.৩ শতাংশেরও কম রপ্তানি হয়। আলোচনার সময় উঠে আসে যে, রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা শুধুমাত্র উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। বালাই ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা, ক্রেতার গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা ও সনদায়ন, ট্রেসঅ্যাবিলিটি, লজিস্টিকস এবং সংস্থাসমূহের সমন্বয়ের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়। বিশেষ করে গার্ডজাতীয় সবজির চালান ইউরোপে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি বৈশ্বিক ক্রেতাদের আস্থা কমছে।
এসজিএস বাংলাদেশ পরিচালিত বাজার সমীক্ষার ভিত্তিতে উচ্চ উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যয়, আকাশপথে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ, কাস্টমস ও বিমানবন্দরে পণ্য ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব, দুর্বল মোড়কীকরণ ও ব্র্যান্ডিং, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশজনিত ঝুঁকি এবং দীর্ঘ সনদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রতিযোগিতাসক্ষমতা হারানোর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আমিরুল বাহরাইন মন্তব্য করেন, কীটনাশকের বিষাক্ততার রঙভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস থাকলেও খেত পর্যায়ে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য ভালো মানের পণ্যের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক মোড়কীকরণও সমান জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক দুর্বল বাজারতথ্য, উচ্চ আকাশপথের পরিবহন ব্যয়, দুর্বল ট্রেসঅ্যাবিলিটি ও লজিস্টিকস ঘাটতিকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। খাতের সক্ষমতা বাড়াতে তিনি রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য, উন্নত লজিস্টিকস ও রপ্তানিসংশ্লিষ্ট কর-সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোবাশ্বেরুর রহমান জুয়েল জানান, আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা কঠিন করে তুলছে।
আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি-র চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস অ্যান্ড হেড অব অপারেশনস হেলাল আহমেদ বলেন, কৃষি রপ্তানি খাতে যুক্ত রপ্তানিকারক, কৃষক ও অংশীজনদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংক আর্থিক সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত ফাতেমা জানান, বাংলাদেশের জমি, অনুকূল জলবায়ু ও কৃষক রয়েছে, কিন্তু ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে একটি সার্বিক কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। আজকের আয়োজন সেই অনুপস্থিত কড়িগুলোকে যুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা।
এতে উল্লেখযোগ্য যে, বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়, ইপিবি, বিএসটিআই, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। যৌথভাবে এ আয়োজনে সহায়তা করে এসটিডিএফ, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি এবং অস্ট্রেলিয়া সরকার। জ্ঞান অংশীদার হিসেবে ছিল ঢাবির ইকোনমিক্স স্টাডি সেন্টার। সুইসকন্ট্যাক্ট মূলত ‘সেফ বিডি’ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৮ মেয়াদে যশোর ও নরসিংদীতে এ সংক্রান্ত নানামুখী টেকসই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন