প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে যে, ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান নৌ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রাখতে তারা সম্পূর্ণ সক্ষম। তারা জানায়, প্রয়োজনে অর্থনৈতিক এই সামরিক উপস্থিতি অনির্দিষ্টকাল ধরে চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যকার চলমান পরিস্থিতি এবং যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই মন্তব্য করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইরান দাবি করেছে যে, তারা এই জলপথের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখছে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের শর্ত পূরণ না হলে এই রুট বন্ধ থাকবে। প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন ব্লকেডের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা দাবি করেছে যে, তারা ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার লক্ষ্যে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত করেছেন যে, আগামী সপ্তাহে তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে। এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে দীর্ঘমেয়াদী এই মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে পতাকাবাহী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে অবস্থান করেছে, ফলে ক্রু এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন সুযোগ-সুবিধার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একটানা দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থানের কারণে নাবিকদের ওপর মানসিক চাপ এবং ক্লান্তির বিষয়টি সামনে এসেছে, যা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব এই অভিযোগগুলো পুরোপুরি অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, রণতরীর কর্মীরা দেশের সুরক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও অবিচল রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত চাপের মুখেও তেহরান বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইরানের নীতিনির্ধারকরা অর্থনৈতিক এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে নিজেদের কৌশলে অনড় রয়েছেন এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন অক্ষের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মার্কিন অবরোধের কারণে তেহরানের তেল রপ্তানি বা আয়ের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানলেও রাজনৈতিকভাবে দেশটির ভেতরে বর্তমান সরকার তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে। সব মিলিয়ে পারস্য প্রণালী এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে সংকট উত্তরণের পথ আপাতত বেশ দীর্ঘ এবং জটিল বলেই মনে হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন