প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইন্টারের বিরুদ্ধে গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৭১ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিনি রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউলকে ছুঁয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছেন।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এমবাপ্পের গোলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ইন্টারের বিরুদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের ২-১ গোলের জয়ী ম্যাচে প্রথম গোলটি করে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় নিজের গোলসংখ্যা ৭১-এ নিয়ে গেছেন এই ফরাসি তারকা। এর ফলে, তিনি রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইউরোপিয়ান মঞ্চে হোসে মরিনিওর প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে গোল করেন এমবাপ্পে। ১৫ মিনিটে ইন্টারের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে তিনি বলটি জালে পাঠান। নয় মিনিট পর ফেদেরিকো ভালভের্দে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে কার্লোস অগুস্তোর গোল ইন্টারকে ম্যাচে ফেরার আশা দিলেও, শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখে রিয়াল।
৭১ গোল করতে এমবাপ্পের লেগেছে ৯৯ ম্যাচ। একই গোলসংখ্যায় রাউল খেলেছেন ১৪২ ম্যাচ। অর্থাৎ, গোলের দিক থেকে দুজন সমান হলেও, ম্যাচপ্রতি গোলের হারে এমবাপ্পে অনেক এগিয়ে—তাঁর হার ০.৭২, রাউলের ০.৫০। আগামী ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নস লিগে শততম উপস্থিতি পূর্ণ করবেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা।
সর্বকালের তালিকায় এমবাপ্পের সামনে এখন চতুর্থ স্থানে থাকা রিয়ালের আরেক কিংবদন্তি করিম বেনজেমা। এমবাপ্পের জন্য বেনজেমাকে পেছনে ফেলতে প্রয়োজন আরও ১৯ গোল। তবে শীর্ষে থাকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ১৪০ গোল ছুঁতে হলে, তাঁকে বর্তমান গোলসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করতে হবে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রোনালদো ১৪০ গোল নিয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন। দ্বিতীয় স্থানে লিওনেল মেসি ১২৯ গোল নিয়ে রয়েছেন, তৃতীয় স্থানে রবার্ট লেভানডফস্কি ১০৯ গোল এবং চতুর্থ স্থানে বেনজেমা ৯০ গোল নিয়ে আছেন। এমবাপ্পে ও রাউল ৭১ গোল নিয়ে যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। তাঁদের পর রয়েছে এরলিং হালান্ড ৫৯, টমাস মুলার ৫৭, রুদ ফন নিস্টেলরয় ৫৬ এবং হ্যারি কেইন ৫৫ গোল নিয়ে।
এমবাপ্পের বিশেষত্ব হলো, তালিকার শীর্ষ পাঁচে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে একমাত্র তিনিই এখনো চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেননি। শীর্ষ দশে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে রুদ ফন নিস্টেলরয় ও হ্যারি কেইনও এখনো এই ট্রফি জিততে পারেননি। গত মৌসুমে রিয়াল কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিলেও, ১৫ গোল করে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন এমবাপ্পে। এক মৌসুমে তাঁর চেয়ে বেশি গোল করার নজির আছে শুধু রোনালদোর।
গোলের দিক থেকে ২০২৬ সালও এমবাপ্পের জন্য দুর্দান্ত যাচ্ছে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম সেরা গোলসংগ্রাহক তিনি। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে গেছেন ফরাসি তারকা, ২২ গোল নিয়ে পেছনে ফেলেছেন মেসিকে।
তবে গোল করার পাশাপাশি রক্ষণে তাঁর ভূমিকা ও পরিশ্রম নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। সেই সমালোচনার জবাবে এমবাপ্পে স্পষ্ট করেছেন, তাঁর কাছে ফুটবলের মূল লক্ষ্য গোল করা। তাঁর মতে, যে খেলোয়াড় গোল করে, সে কোনো দলের জন্য সমস্যা হতে পারে না। কারণ গোল না করে কোনো দলই শিরোপা জিততে পারে না।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এমবাপ্পের সামনে দ্রুত আরও ওপরে ওঠার সুযোগ রয়েছে। ৯৯ ম্যাচে ৭১ গোল এবং ০.৭২ গোলের হার বলছে, রাউলের সমান জায়গায় থামার সম্ভাবনা কম। সামনে বেনজেমা, আর দূরে রোনালদো-মেসিদের রেকর্ড—এমবাপ্পের দৌড় এখন ইতিহাসের আরও বড় অধ্যায়ের দিকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন