প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর ত্রিশাল সফরের প্রেক্ষাপটে ভিভিআইপি প্রটোকলের দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকা এবং দেড় বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ত্রিশাল উপজেলা কার্যালয়ের মেকানিক মো. আকরামুল ইসলামকে তিন দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
প্রাপ্ত দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে আকরামুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ২৩ মে ত্রিশাল উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় ভিভিআইপি প্রটোকল এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস পরিদর্শনের সময় তাঁর দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রওশন আলমের নজরে আসে।
নোটিশে অফিসের হাজিরা খাতার উল্লেখ করে বলা হয়, আকরামুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তাকে নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে তৃতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। সর্বশেষ নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় এবং অন্যথায় একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সতর্কতা দেওয়া হয়। তবে তিন দফা নোটিশের পরও আকরামুল ইসলাম কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করেননি এবং অফিসেও আসেননি।
আকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় ঠিকাদারি কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, তিনি ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এ ছাড়া মেসার্স দোয়েল হেলথ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন-এর মালিক এবিএম সামছুন্নবী তুলিপের মাধ্যমে তাঁর ঠিকাদারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তার আপন শ্যালক নজরুল ইসলাম কাজলের নামে লাইসেন্স দিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থ-বছরের আংশিক কাজ করেই টু পিন ল্যাট্রিন নির্মাণে ত্রিশাল উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নের ৯ কোটি ৮২ লক্ষ টাকার বিল উত্তোলন করেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে। তবে এখন পর্যন্ত এসব কাজের ৫০% কাজও সম্পন্ন হয়নি।
আকরামুল ইসলামের বিরুদ্ধে গবাদিপশু পালন, মাছ চাষ, জমি ক্রয় ও লিজ গ্রহণসহ বিভিন্নভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারী এসব সম্পদের অর্থের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও একটি মাদ্রাসার নামে তাঁর বাড়িতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থে টাইলসসহ বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ত্রিশাল উপজেলা কার্যালয়ের মেকানিক মো. আকরামুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রওশন আলম বলেন, "তৃতীয় চিঠির ব্যাপারে আমার জানা নেই। দেখতে হবে।"
অথচ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ রওশন আলমের সাক্ষরিত তৃতীয় দফার চিঠি দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ত্রিশালের সাবেক সংসদ সদস্য হাফেজ রুহুল আমিন মাদানীর ঘনিষ্ঠ পরিচয় এবং তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সরকারের ভাতিজা পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন আকরামুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘নানা-নাতি’ পরিচয়েও পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে ৫ই আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এই প্রশ্ন টক অব দা ত্রিশাল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন