০৬:২২ পি.এম
বঙ্গভবনে প্রবেশ করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে বঙ্গভবনে প্রবেশ করছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে তার গাড়িবহর বঙ্গভবনে প্রবেশ করে।
এর আগে বিকাল থেকেই রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবনে এরই মধ্যে আমন্ত্রিত অতিথিদের আসতে দেখা যাচ্ছে। আমন্ত্রণপত্রের কার্ড দেখিয়ে অতিথিদের বঙ্গভবনে প্রবেশ করতে দেখা যাচ্ছে। এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিচারপতি, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বঙ্গভবনের সামনে দীর্ঘদিনের ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। গুলিস্তান থেকে বঙ্গভবনমুখী সড়কের ফুটপাত থেকে অবৈধ ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়ায় এলাকাটি অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
বঙ্গভবনের দরবার হলে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথ পড়াবেন। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
শুরুতে জাতীয় সংগীত ও কোরআন তিলাওয়াতের পর রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ শেষে শপথ বইয়ে সই করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রপতির চেয়ারে আসীন হবেন।
বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১ হাজার ২০০-এর বেশি আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করা হয়েছে। দরবার হলে সাধারণ সময়ের তুলনায় এবার আসনসংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। প্রায় ৪০০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে ৮০০-এর বেশি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রাথমিকের সব বই ৫ নভেম্বরের মধ্যে সরবরাহের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিরোধী দলের নেতা ও সংসদ সদস্য, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
রাষ্ট্রপতির শপথের পরই মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্যের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী মন্ত্রী হিসেবে এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তাঁদের শপথ পড়াবেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাষ্ট্রপতির শপথের আগে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে আসবেন। এরপর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বঙ্গভবনে প্রবেশ করবেন। পরে তাঁরা দরবার হলে যাবেন।
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে বঙ্গভবনের বাইরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গেছে। মূল প্রবেশপথের বাইরে নিরাপত্তার কারণে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হলেও সেখানে দলটির বেশ কিছু নেতাকর্মীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন