প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার কসবা মহল্লায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কেনা জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসবা মহল্লার প্রতিবন্ধী আব্দুল মালেক এবং তার ভাই আব্দুস সাত্তার একই এলাকার গোপাল কুমার মহন্তের কাছ থেকে ৬ শতক জমি ক্রয় করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জমিটি রেজিস্ট্রি করা হয়। জমিটিতে পূর্বে একটি স্থাপনা বিদ্যমান ছিল। জমির মালিকদের কাছ থেকে স্থাপনাসহ পুরো জমি বুঝে নেওয়ার পর সেখানে ব্যবসায়িক স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দুই ভাই।
অভিযোগ রয়েছে, শনিবার উত্তর একডালা মহল্লার সাহেব আলী, সৈয়দ আলী, বারীক মাস্টার ও আব্দুল কুদ্দুসসহ কয়েকজন ওই জমির স্থাপনার সামনে বাঁশের বেড়া দেন। জমির মালিকরা দাবি করেছেন, তাদের ওই জমিতে কোনো মালিকানা বা স্থাপনা নেই। ফলে ক্রয় করা জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
জমির মালিক আব্দুল মালেক বলেন, "অনেক কষ্ট করে জমিটি কিনেছি। সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু একটি পক্ষ জোরপূর্বক তাদের কেনা জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়েছে। ওই জমিতে তাদের কোনো অধিকার নেই।"
আব্দুস সাত্তার আরও বলেন, "আমরা দুই ভাই গোপাল মহন্তের কাছ থেকে ৬ শতক জমি কিনেছি। ফেব্রুয়ারি মাসে জমিটি রেজিস্ট্রি হয়েছে। স্থাপনাসহ জমিটি আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ অন্য এলাকার কয়েকজন লোক এসে জোরপূর্বক বাঁশের বেড়া দিয়েছে।"
তিনি বলেন, "এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানালে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।"
অভিযোগের বিষয়ে সাহেব আলী জানান, "সেখানে তাদের কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নেই। রাস্তার পাশে কিছু সরকারি জায়গা রয়েছে, সেটি দখলের উদ্দেশ্যে তারা বাঁশের বেড়া দিয়েছেন। সেখানে একটি বিদ্যালয়ও রয়েছে এবং আব্দুল মালেকরা বিদ্যালয়ে তালা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে তারা বাঁশের বেড়া দিয়েছেন বলেও জানান সাহেব আলী।"
প্রতিবন্ধীর জমি দখলের চেষ্টায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি দেখা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না জানান। তিনি আরও বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেলে উভয়পক্ষকে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, "জায়গা দখলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়। এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন