প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুলিশ সদস্যদের পরিবর্তন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনী অতীতে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং অপব্যবহারের শিকার হয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ পালন করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে তাদের সামনে সংশোধন ও নতুনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে তাদের পরিবর্তনটি দেখাতে হবে।
আজ শনিবার সকাল ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।’
আরো পড়ুন
বারবার তাগাদার পরও বিগত সরকার শিশুদের হামের টিকা দেয়নি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে।’ দেশের জনগণের নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘পুলিশ সদস্যদের ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলায় শুধু বিভাগীয় শাস্তির মধ্যে ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ থাকবে না; কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে একই সঙ্গে প্রচলিত আইনে মামলা ও বিচার হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ চালু থাকবে। যারা ভালো কাজ করবেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরো পড়ুন
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার বিকল্প নেই : ডিএসসিসি প্রশাসক
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জনগণ এখন রাজা-বাদশাহ নয়, ‘জনগণের পুলিশ’ দেখতে চায়। কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা এমন কর্মকাণ্ড করবেন না, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। একইভাবে অধস্তন কোনো সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডেও অনুমতি বা আশ্রয় দেওয়া যাবে না, যা সমাজে অশান্তি বা অস্বস্তি তৈরি করে।”
তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনে ভুলত্রুটি থাকলেও কেউ যদি সৎভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, তাহলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা কিংবা অপরাধ সংঘটিত হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এ জন্য পুলিশ বাহিনীর জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো হবে।’
পুলিশের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। এর সদর দপ্তরের পাশাপাশি মেট্রো, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি, ফরেনসিক ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অপরাধের বড় একটি অংশ সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি আবারও উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার ও অপব্যবহারের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ পালনেও বাধ্য করা হয়েছিল। তবে এখন তাদের সামনে নিজেদের সংশোধন ও নতুনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে নতুন কাঠামোর আওতায় এনে আরো কার্যকর করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রো ও অন্যান্য এলাকায় বিশেষ ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং অবকাঠামো ও লজিস্টিক সুবিধা দেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন