প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের নিঃসরণে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দায়িত্বে অবহেলার বিভিন্ন দিক চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই কারণে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তবে শাস্তির প্রকৃতি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ট্যাংকে ছিদ্র করার সময় হঠাৎ করে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ হয়। গ্যাসটির তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, এর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে চেতনা হারিয়ে ফেলেন। এই ঘটনায় প্রায় ১০ জনের মৃত্যু ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, অতিরিক্ত সচিব একেএম বেনজামিন রিয়াজী, ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরসনে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খানসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, প্লাস্টিক থেকে হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো প্রাণঘাতী গ্যাস নিঃসরণের সম্ভাবনা সম্পর্কে শিল্পখাতের কাছে আগে তেমনভাবে জানা ছিল না। এই দুর্ঘটনা সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশও তদন্ত প্রতিবেদনে করা হয়েছে।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সরকার সংশ্লিষ্ট সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একইসঙ্গে নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সমিতি সরকারকে অবহিত করে।
মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার পরদিন সকাল থেকেই রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। পরে দুপুর থেকে সেনাবাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রাখে, যাতে নতুন করে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। গ্যাসের নিঃসরণ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়।
এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণের পাশাপাশি কোথায়-কোথায় অবহেলা ছিল, তা চিহ্নিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, রিসাইক্লিং শিল্প এখনো বিকাশমান। কয়েক বছর আগে এই শিল্পের অবস্থা ছিল অনেকটা প্রাথমিক পর্যায়ের। বর্তমানে দেশের কয়েকটি রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন সার্টিফিকেশন পেয়েছে এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো দুর্ঘটনা বা ঘটনার প্রকৃত তথ্য স্বচ্ছতার সঙ্গে জনগণের সামনে তুলে ধরতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার প্রতিবেদন প্রকাশ করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, ইয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রচলিত আইনে যে শাস্তি প্রাপ্য, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারই ব্যবস্থা হবে।
তিনি বলেন, ‘শাস্তি কী হবে, তা আমরা নির্ধারণ করে দিতে পারি না। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা নির্ধারিত হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন