প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাঠ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা কমছে। চলতি বছরের মে মাসে এপ্রিলের তুলনায় জঘন্য অপরাধের সংখ্যা কমেছে ২৪টি, যা শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩৭টি, অর্থাৎ ৮.৪৪ শতাংশ কমেছে।
মহানগর ডেস্কের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ২১ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সারা দেশের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মাসিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় এ তথ্যটি উঠে এসেছে।
সভায় উল্লেখ করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন।
সভার উপস্থাপকরা জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে জঘন্য বা গুরুতর অপরাধের সংখ্যা এপ্রিলের তুলনায় ২৪টি বা শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে। সেই সঙ্গে আগের বছরের মে মাসের তুলনায় এ বছরের মে মাসে এ ধরনের অপরাধ ২৩৭টি বা ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকরা প্রতি মাসে সার্বিক পরিস্থিতির প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠান। ঐ প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেও পাঠানো হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান জানান, প্রতি মাসে জেলায় পরিচালিত কার্যক্রম বিভাগীয় কমিশনারদের সভায় উপস্থাপন করা হয়। সেখানকার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। জেলা প্রশাসকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করে। এভাবেই মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। যদি পরিস্থিতির উন্নতি হয়, তবে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়, এবং যদি অবনতি হয়, তবে করণীয় নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যেসব অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সেগুলোকে গুরুতর বা জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বপরিকল্পিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা (দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণ ও ধর্ষণের ফলে মৃত্যু, যৌতুকের কারণে নারীর মৃত্যু, মুক্তিপণের জন্য বা হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ (দণ্ডবিধির ৩৬৪-ক ধারা), রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধের উদ্যোগ (দণ্ডবিধির ১২১ ধারা), সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় উপস্থাপিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৫২১টি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা ৪৬৬টি ছিল, এবং মে মাসে তা দাঁড়ায় ৪৮৫টিতে।
রাজশাহী বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৩৪৯টি, যা ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ২৬১টিতে নেমে আসে।
খুলনা বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ২৭১টি, ২০২৬ সালের এপ্রিলে এটি ২১৯টি এবং মে মাসে ২৪২টিতে দাঁড়ায়।
বরিশাল বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ২২২টি, এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে এ সংখ্যা ২২১টি ছিল।
সিলেট বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ১৯৩টি, ২০২৬ সালের এপ্রিলে এটি ১১৯টি এবং মে মাসে ১২৩টিতে দাঁড়ায়।
রংপুর বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৩১৩টি, যেটি ২০২৬ সালের মে মাসে কমে ২৬৩টিতে দাঁড়ায়।
ময়মনসিংহ বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ১৬৩টি, আর ২০২৬ সালের এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল ১৬২টি।
অপরাধের তুলনামূলক তথ্য অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৪৮৮টি, যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে কমে ৪১১টিতে, এবং মে মাসে আরও কমে ৪০২টিতে নেমে আসে।
সারা দেশে ২০২৫ সালের মে মাসে মোট ২ হাজার ৮০৯টি গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৯৬টি এবং মে মাসে কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৭২টিতে।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং প্রায় সব ধরনের অপরাধ কমেছে।
তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আমি যে পরিসংখ্যান পেয়েছি, তাতে দেখা গেছে ২০২৫ সালের তুলনায় অপরাধ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই অপরাধ কমেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী (বুস্ট আপ) করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখায় তিনটি আলোচিত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের স্বীকৃতিও দেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া কয়েক জন পুলিশ সদস্য, দৌলতদিয়ার নৌদুর্ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নৌ-পুলিশের তিন সদস্য, এবং মুন্সিগঞ্জে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেফতারে অবদান রাখা তিন পুলিশ সদস্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন