প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নীলফামারীর ডোমারে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় পর্যন্ত বিষয়টি পৌঁছালেও, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর গোবনাতী ইউনিয়নের সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। যখন বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়, তখন এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে আটক করে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেন এবং বিদ্যালয়ে না আসার শর্ত দেন।
এরপর গোমনাতী ক্লাস্টারের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) রুহুল আমিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলামকে অনুপস্থিত পান। যৌন হয়রানির অভিযোগের কারণে তিনি অনুপস্থিত—এমন বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তাকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে যে, পরবর্তীতে এটিও রুহুল আমিন ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং চাকরির ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন ধাপে মোট ৫০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে রুহুল আমিনকে ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক প্রতিনিধি বলেন, "যৌন হয়রানির মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার নীরব থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" এতে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অভিভাবকদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানান।
বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি যদি ঘুষ গ্রহণ করে থাকি, তাহলে তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"
তিনি আরো দাবি করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের অপকর্ম ঢাকতে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রথম দফায় দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় নোটিশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দ্বিতীয় নোটিশের জবাব পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এটিও আব্দুল মান্নান বলেন, "আমি এক দিনের জন্য দায়িত্বে আছি। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না। আপনারা পরবর্তীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন।"
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, "ওটা একটু ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল, সব মীমাংসা হয়ে গেছে। ঘটনাটি সঠিক নয়।"
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন