প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
থার্মাল ড্রোনের সাহায্যে টানেলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অংশে অনুসন্ধান পরিচালনা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের বন্যাকবলিত একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো সত্ত্বেও কোনো শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। রসুয়া জেলার ১১১ মেগাওয়াট ক্ষমতার রাসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে অন্তত ৯৩ জন শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি
এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোতে কোশি নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে শ্রমিকেরা টানেলের শেষ প্রান্তে আটকা পড়ে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। এই অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনী, প্রকৌশলী এবং ড্রোন বিশেষজ্ঞদের একটি দল অংশগ্রহণ করে।
উদ্ধারকারীরা টানেলের একেবারে শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হন। এরপর থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করে টানেলের ভেতরের বিভিন্ন অংশে অনুসন্ধান চালানো হয়। যেসব স্থানে সরাসরি প্রবেশ করা ঝুঁকিপূর্ণ বা কঠিন ছিল, সেখানেও ড্রোনের মাধ্যমে অনুসন্ধান করা হয়। কিন্তু সেখানে কোনো শ্রমিকের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপালের প্রধানমন্ত্রীর অফিস জানায়, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্ধারকারী দলটি রাসুওয়াগাধি প্রকল্পের টানেলে তল্লাশি শেষ করে ফিরে এসেছে। ড্রোনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর যে টানেলে কেউ নেই, সেই তথ্য পাওয়ার পর উদ্ধারকারীরা রসুয়া জেলার ধুনচেতে ফিরে যান।
এদিকে, নেপালের ভয়াবহ বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক আটকা পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে নিখোঁজ ব্যক্তিরা টানেলে আটকা পড়েছেন, নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন, অথবা বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন—এ বিষয়ে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হতে পারছেন না।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
এখন পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে ২৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এর মধ্যে আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্প থেকে ২৫৪ জন এবং লাংটাং খোলা প্রকল্প এলাকা থেকে আরও ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, নেপাল (আইপিপিএএন) জানায়, রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৮৯৭ জনের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন