ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য নারী আসনে উপনির্বাচনের নিয়ম কী


মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য নারী আসনে উপনির্বাচনের নিয়ম কী

জাতীয় সংসদের সাধারণ আসন শূন্য হলে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নতুন সংসদ সদস্য ভোটারদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। তবে সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম ভিন্ন। শূন্য হলে সাধারণ আসনের মতো সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হয় না। বরং যে দল বা জোটের অনুকূলে আসনটি বরাদ্দ ছিল, সেই দলের মনোনীত প্রার্থীর মাধ্যমে আসনটি পূরণ করা হয়।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর এই বিষয়টি নতুনভাবে সামনে এসেছে।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইনে উল্লেখ রয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে যদি কোনো সংরক্ষিত মহিলা আসন শূন্য হয়, তাহলে শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ক্ষেত্রে যে রাজনৈতিক দল বা জোটের অনুকূলে আসনটি বরাদ্দ ছিল, শুধুমাত্র সেই দল বা জোটই উপনির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। এই উপনির্বাচনে ভোটারও হবে ওই নির্দিষ্ট দল বা জোটের সংসদ সদস্যরা।

আরও পড়ুন: ১৬ বছর আগের ঘটনায় জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ফাঁসলেন রাখি সাওয়ান্ত

ত্রয়োদশ সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে মোট ৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে ফেরদৌসী আহমেদ মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "যদি কোনো সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেন, নারী বা পুরুষ যেই হোন না কেন, সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে। পরে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। এরপর আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে ওই পদ পূরণের জন্য নির্বাচন আয়োজন করা হবে।"

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, "এই উপনির্বাচনের জন্যও পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তবে ভোটার হবেন সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত নারী আসনের পদত্যাগকারী সংসদ সদস্য যে দলের প্রতিনিধিত্ব করতেন, সেই দলের সংসদ সদস্যরা। অর্থাৎ এই আসন বিএনপির। শূন্য হওয়ার পর উপনির্বাচনেও শুধু বিএনপিই এখানে প্রার্থী দিতে পারবে। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।"

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা যায়, ওই ঘটনার পর বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দলীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়।

আরও পড়ুন: হুইপ দুলুর আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন, অনুপস্থিত চিকিৎসকদের শোকজের নির্দেশ

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ। ইতিমধ্যে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মদিনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি, দাবি সৌদির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৩ এম


মদিনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি, দাবি সৌদির

মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে সৌদি আরবে। মিত্রবাহিনী জানায়, হুথি মিলিশিয়ার পরিচালিত এই হামলায় তায়বাহ পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন স্টেশনের একটি ট্রান্সফরমার বন্ধ হয়ে গেলেও পুরো বিদ্যুৎব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়েনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা আরও জানায়, এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

মিত্রবাহিনী জানায়, মঙ্গলবার সকালে মদিনার তায়বাহ পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন স্টেশন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার বন্ধ হয়ে যায়।

তবে মদিনার সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানায় মিত্রবাহিনী। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মিত্রবাহিনীর দাবি, মদিনার নবীজির (স.) মসজিদ মসজিদে নববি এবং অন্যান্য পবিত্র স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী লাইন লক্ষ্য করে হুথিরা ধারাবাহিকভাবে হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মিত্রবাহিনী জানায়, দুই পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হুথিদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তবে হামলার দায় স্বীকার করে হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলায় হতাহত বা বিদ্যুৎ সরবরাহে অন্য কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মদিনা মুসলিমদের কাছে অন্যতম পবিত্র শহর এবং এখানে মসজিদে নববি অবস্থিত। শহরের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার ঘটনা নিরাপত্তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে মিত্রবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এবারের হামলায় মদিনার সামগ্রিক বিদ্যুৎব্যবস্থা সচল রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিশ্লেষকদের মত

ফ্লাইদুবাইয়ের হাইজ্যাক চেষ্টায় রাজনৈতিক ফায়দা তুলছেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৩ এম


ফ্লাইদুবাইয়ের হাইজ্যাক চেষ্টায় রাজনৈতিক ফায়দা তুলছেন নেতানিয়াহু

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাইয়ের’ এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া রহস্যজনক হাইজ্যাক চেষ্টার অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। এই আক্রমণকারী কে ছিলেন—যিনি ফ্লাইটটির নাম প্রকাশ না হওয়া কো-পাইলট? ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করার পর তার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এত সব ধোঁয়াশার মধ্যেও, দখলদার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—দেশে ফিরে আসা যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানানোর ব্যস্ততায়—এই ঘটনাকে ইসরাইলবিরোধী ‘অপপ্রচারের’ অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে চিহ্নিত করতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি।

নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন যে, ঘটনার পেছনের আসল মোটিভ বা উদ্দেশ্য নিশ্চিত করার সময় এখনো আসেনি। তবে তিনি আঙুল তুলেছেন ইরানের দিকে। তিনি দাবি করেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যে দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, সেই ইরান এবং তাদের মিত্ররাই বিদেশে ইসরাইলিদের ওপর হামলা বাড়িয়ে দিতে চাইছে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ওই কো-পাইলট ‘ইসলামপন্থি উগ্রবাদী ভাবধারায়’ দীক্ষিত হয়েছিলেন, যা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

যে রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন, যিনি চারপাশের সব হুমকির মুখে ইসরাইলিদের একমাত্র সত্যিকারের রক্ষাকর্তা—এই হাইজ্যাকের চেষ্টা তার প্রচারণাকে আরও শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে। কারণ চলতি মাসের শেষের দিকে হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সংসদীয় নির্বাচন, যা নির্ধারণ করবে নেতানিয়াহু দেশের ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন কিনা।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলি সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভি বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে এর শেষ কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা বলার সময় হয়তো এখনো হয়নি।’ তিনি যোগ করেন, ‘এটি নিশ্চিতভাবেই নেতানিয়াহুর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে নতুন গতি আনবে—আর তা হলো ইরানের ওপর তীব্র হামলা পুনরায় শুরু করা। এটি নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটগুলো থেকে নজর সরাতেও সাহায্য করবে এবং সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া তার সতর্কবার্তাগুলোকে সঠিক বলে প্রমাণ করতে পারবে।’

এর আগে মঙ্গলবার নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমাদের শত্রুরা আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাবে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’ তবে তার বিরোধীরা তথ্যপ্রমাণহীন ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে দ্রুতই সেই সতর্কবার্তা উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎস বিমান হামলাকে একটি ‘জিহাদি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনিও আগের সতর্কবার্তার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও আমি যখন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ট জারি করি, তখন বিদেশে থাকা আমাদের শত্রু হোক আর দেশের ভেতরের খবরাখবর না রাখা সাবেক কর্মকর্তারা হোন—সবারই উচিত কথাগুলো শোনা এবং সেগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া।’

তবে ইসরাইলি বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ—যিনি মঙ্গলবার রাতে নেতানিয়াহুর কাছ থেকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্রিফিং পেয়েছিলেন—দ্রুতই এই যোগসূত্র নাকচ করে দিয়েছেন। বুধবার তিনি বলেন, ‘গত রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হওয়া নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে (বিমান হামলার) কাছাকাছি কোনো কিছুর উল্লেখই ছিল না।’

ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করা কিছু বিশ্লেষকের মতে, বিমান হামলার পর তার প্রতিক্রিয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয় বরং সংকটগুলোকে নিজের পক্ষে ঘুরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলেরই অংশ।

কিং কলেজ লন্ডনের সিনিয়র টিচিং ফেলো এবং ইসরাইলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যারন ব্রেগম্যান বলেন, ‘নেতানিয়াহু এই ঘটনা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন। যাত্রীরা ইসরাইলে অবতরণ করার পরপরই তাকে কোনো এক ইসরাইলি বীরের (যিনি কো-পাইলটকে ঘায়েল করেছিলেন) সঙ্গে খোশগল্প করতে দেখা গেছে।’

তবে ব্রেগম্যান মনে করেন না যে, নেতানিয়াহু এতে শেষ পর্যন্ত লাভবান হবেন, যদিও জনমত জরিপ বলছে, নির্বাচনে তিনি অল্প ব্যবধানে হেরে যেতে পারেন। ব্রেগম্যান বলেন, ‘এর মাধ্যমে তার কোনো রাজনৈতিক লাভ হবে না। (এই হামলা) আমাদের সবার মতোই তাকেও অবাক করে দিয়েছে।’

তিনি যোগ করেন, নেতানিয়াহুর একমাত্র আশার আলো হতে পারে যদি ইরানের সঙ্গে এই হামলার যোগসূত্র নিশ্চিত করা যায়, যা তেহরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সেই সংঘাত থেকে দূরে থাকার ইঙ্গিত দিয়ে আসছে।

আল জাজিরাকে ব্রেগম্যান বলেন, ‘এখানে স্পষ্টতই নিরাপত্তার বড় ধরনের ত্রুটি ছিল, যার তদন্ত করা হবে। এটি আরেকটি ৯/১১-এর মতো পরিণতি ডেকে আনতে পারত, তবে কিছু সাহসী যাত্রী এবং প্রচুর সৌভাগ্যের কারণে তা এড়ানো গেছে।’

নিপীড়নের বয়ান

বুধবার মার্কিন গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, বিমান ছিনতাইয়ের এই ব্যর্থ চেষ্টার পেছনে কারা ছিল, তা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে কো-পাইলটের এই কাজ হলো ‘অভাবনীয় মাত্রার ধর্মান্ধতা এবং ঘৃণার’ ফল। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনার কারণে সৃষ্ট ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গেই এই অনুভূতির যোগসূত্র রয়েছে।

গাজায় ইসরাইলের গণহত্যায় ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তার সমান্তরালেই নেতানিয়াহুর ভুক্তভোগী ও নিপীড়িত সাজার প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতে একের পর এক হামলা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস তাণ্ডবে রাষ্ট্রের যোগসাজশ থাকার জোরালো অভিযোগও উঠেছে। এর ফলে বহু দেশ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূমির অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বিমান হামলার জন্য যে বৈশ্বিক ক্ষোভকে তিনি দায়ী করছেন, তার জবাবে গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহু বলেছিলেন যে, ইসরাইল ইতোমধ্যে সাতটি ফ্রন্টের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একটি ‘অষ্টম ফ্রন্টের’ বিরুদ্ধেও লড়ছে।

আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক নেতানিয়াহুর এই আক্রমণ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে আল জাজিরা ও এর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘দীর্ঘমেয়াদি নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের’ আরেকটি নজির বলে অভিহিত করেছে। গাজায় ইসরাইলি হামলায় তাদের ১২ জন সহকর্মী নিহত হয়েছেন।

চ্যাথাম হাউসের সিনিয়র কনসালটিং ফেলো ইয়োসি মেকেলবার্গ বলেন, ‘ইসরাইল সরকার (বিমান ছিনতাইয়ের) এই হামলাটিকে জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করতে চাইবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি ইসরাইলের অনেকের মনে থাকা নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি এবং ৭ অক্টোবরের পর থেকে বয়ে বেড়ানো মানসিক ট্রমার আগুনে ঘি ঢালবে। সেই সঙ্গে যেসব দেশ ইসরাইলকে ধ্বংস করার অভিপ্রায় রাখা পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রকে শাস্তি দিচ্ছে, সেই দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতি নিয়ে ইসরাইলিদের মনে যে ক্ষোভ রয়েছে, তাকেও এটি আরও উসকে দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেদানা কি হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ এম


বেদানা কি হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক?

বেদানা, আখরোট এবং বেরি জাতীয় ফলকে সাধারণত স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সম্প্রতি গবেষকরা এসব খাবারে উপস্থিত একটি উপাদানের বিষয়ে নতুন আশার খবর জানিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব খাবার খাওয়ার পর অন্ত্রে গঠিত ‘ইউরোলিথিন এ’ নামক যৌগ হার্ট ফেইলিওরের একটি নির্দিষ্ট ধরনের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করতে পারে।

কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণায় প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় ‘ইউরোলিথিন এ’ ব্যবহারের ফলে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই ফলাফলকে মানুষের ক্ষেত্রে ডালিম খেয়ে হার্ট ফেইলিওর ভালো হওয়ার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। গবেষণাটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

গবেষণাটি সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে মূলত ‘হার্ট ফেইলিওর উইথ প্রিজার্ভড ইজেকশন ফ্র্যাকশন’ বা HFpEF নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই ধরনের হার্ট ফেইলিওরে হৃদযন্ত্র রক্ত পাম্প করতে সক্ষম হলেও হৃদপেশি শক্ত হয়ে যায়। ফলে প্রতিটি হৃদস্পন্দনের পর হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে শিথিল হয়ে রক্তে পূর্ণ হতে পারে না।

কী এই ইউরোলিথিন এ

ইউরোলিথিন এ সাধারণভাবে বেদানায় পাওয়া কোনো উপাদান নয়। ডালিম, আখরোট এবং কিছু বেরি জাতীয় ফলে উপস্থিত ‘এলাজিটানিন’ অন্ত্রের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ভেঙে গিয়ে শরীরে ইউরোলিথিন এ তৈরি করে।

তবে সবার শরীরে একই পরিমাণ এই যৌগ তৈরি হয় না। কারণ মানুষের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার গঠন ভিন্ন ভিন্ন। এ কারণে একই ধরনের খাবার খেলে শরীরে ইউরোলিথিন এ তৈরির পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে।

কীভাবে হৃদযন্ত্রের উপকার হতে পারে

গবেষকদের ধারণা, ইউরোলিথিন এ হৃদপেশির শিথিল হওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই যৌগটি ‘PKGla' নামক একটি প্রোটিনকে সক্রিয় করে, যা রক্তনালীর কার্যকারিতা এবং হৃদপেশির শিথিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় ইউরোলিথিন এ ব্যবহারের পর হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা চিকিৎসা না পাওয়া প্রাণীদের তুলনায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে। একই সঙ্গে হৃদপেশিতে ফাইব্রোসিস বা ক্ষতিকর ক্ষত-কলা এবং হৃদপেশির কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিও কম দেখা গেছে।

মানব টিস্যুতেও মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল

শুধু প্রাণীর ওপর নয়, গবেষকরা মানুষের স্টেম সেল থেকে তৈরি হৃদপেশির টিস্যুতেও ইউরোলিথিন এ পরীক্ষা করেছেন। সেখানে যৌগটি প্রয়োগের পর টিস্যুর শিথিল হওয়ার ক্ষমতা উন্নত হতে দেখা গেছে।

তবে এটি জীবিত মানুষের হৃদযন্ত্র নয়। তাই এই ফলাফল থেকে এখনই বলা সম্ভব নয় যে হার্ট ফেইলিওরে আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রেও একই ফল পাওয়া যাবে।

তাহলে কি বেদানা খেলে হার্ট ফেইলিওর ভালো হবে? গবেষণায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে শুধুমাত্র ডালিম খেলে হার্ট ফেইলিওরের চিকিৎসা সম্ভব।

গবেষকদের মতে, খাবারের মাধ্যমে শরীরে কতটা ইউরোলিথিন এ তৈরি হবে, তা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই ডালিম বা এলাজিটানিনসমৃদ্ধ অন্য খাবার খেলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ ইউরোলিথিন এ শরীরে তৈরি হবে-এমন নিশ্চয়তা নেই।

বিট্রিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক জেমস লেইপার বলেন, গবেষণার ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও এর সুফল এখন পর্যন্ত প্রাণী এবং গবেষণাগারে তৈরি মানব টিস্যুতে দেখা গেছে। মানুষের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর ও নিরাপদ কি না, তা জানতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।

তাহলে বেদানাকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে, কিন্তু হার্ট ফেইলিওরের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ, নারীর সর্বশেষ অবস্থা সর্ম্পকে জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৫ এম


মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ, নারীর সর্বশেষ অবস্থা সর্ম্পকে জানা গেল

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে আছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিচ্ছেন, এমনটি জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি বলেন, তার শারীরিক অবস্থা বা সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, পাইক জীবিত আছেন।

পাইক, যিনি ৫০ বছর বয়সী, ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। গত বুধবার টেনেসির কারাগারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়।

আইনজীবীদের দাবি, পাইককে পেন্টোবারবিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ দেওয়ার পরও তিনি মারা যাননি। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আইনজীবী স্পাইভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পাইকের শরীরে আইভি লাইন স্থাপনের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার বাম হাতে অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহৃত হয়, এর মধ্যে একটি সূঁচ বের করার সময় বাঁকা অবস্থায় ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কয়েক মিনিট পরেও পাইক শ্বাস নিচ্ছিলেন, এমনটি জানান স্পাইভি। তার ভাষ্য, এই সময় পর্যবেক্ষকদের একটি বন্ধ পর্দার আড়ালে রাখা হয়েছিল। পর্দার পেছনে চিকিৎসা সহায়তা কখন শুরু হয়েছিল, তা তারা জানতে পারেননি।

ঘটনার পর পাইকের আইনজীবীরা তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আরও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে, টেনেসির গভর্নর বিল লি ঘটনার স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তদন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ হবে এবং এতে সময় লাগবে।

গভর্নর একই সঙ্গে চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য রাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন। এই স্থগিতাদেশের আওতায় ৩ ডিসেম্বর গ্যারি সাটনের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও পড়ছে।

তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন জানিয়েছে, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় রাজ্যের আইনসম্মত ও অনুমোদিত প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়াও ওই প্রোটোকলের অংশ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

টেনেসি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও ঘটনার তদন্তের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, "কী ঘটেছিল তা জানা প্রয়োজন।"

এটি ২০২৬ সালে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থ প্রচেষ্টা। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। তার শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের জন্য শিরা খুঁজে না পাওয়ায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে তাকে এক বছরের জন্য মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%