০৮:৫১ এম
জাতীয় সংসদের সাধারণ আসন শূন্য হলে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নতুন সংসদ সদস্য ভোটারদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। তবে সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম ভিন্ন। শূন্য হলে সাধারণ আসনের মতো সরাসরি ভোট অনুষ্ঠিত হয় না। বরং যে দল বা জোটের অনুকূলে আসনটি বরাদ্দ ছিল, সেই দলের মনোনীত প্রার্থীর মাধ্যমে আসনটি পূরণ করা হয়।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর এই বিষয়টি নতুনভাবে সামনে এসেছে।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইনে উল্লেখ রয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো কারণে যদি কোনো সংরক্ষিত মহিলা আসন শূন্য হয়, তাহলে শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ক্ষেত্রে যে রাজনৈতিক দল বা জোটের অনুকূলে আসনটি বরাদ্দ ছিল, শুধুমাত্র সেই দল বা জোটই উপনির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। এই উপনির্বাচনে ভোটারও হবে ওই নির্দিষ্ট দল বা জোটের সংসদ সদস্যরা।
আরও পড়ুন: ১৬ বছর আগের ঘটনায় জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ফাঁসলেন রাখি সাওয়ান্ত
ত্রয়োদশ সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে মোট ৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে ফেরদৌসী আহমেদ মনোনীত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "যদি কোনো সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেন, নারী বা পুরুষ যেই হোন না কেন, সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করবে। পরে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। এরপর আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে ওই পদ পূরণের জন্য নির্বাচন আয়োজন করা হবে।"
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, "এই উপনির্বাচনের জন্যও পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তবে ভোটার হবেন সংশ্লিষ্ট সংরক্ষিত নারী আসনের পদত্যাগকারী সংসদ সদস্য যে দলের প্রতিনিধিত্ব করতেন, সেই দলের সংসদ সদস্যরা। অর্থাৎ এই আসন বিএনপির। শূন্য হওয়ার পর উপনির্বাচনেও শুধু বিএনপিই এখানে প্রার্থী দিতে পারবে। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।"
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা যায়, ওই ঘটনার পর বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। দ্রুত পদত্যাগ না করলে দলীয়ভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়।
আরও পড়ুন: হুইপ দুলুর আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন, অনুপস্থিত চিকিৎসকদের শোকজের নির্দেশ
এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ। ইতিমধ্যে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন