প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে বিরোধী দলের জন্য সভাপতি পদ বরাদ্দ করা হবে, এমন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার জাতীয় সংসদে ১০টি মন্ত্রণালয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। তবে, এই কমিটিগুলোর মধ্যে কোনোটিতেই বিরোধী দলের কাউকে সভাপতি পদ দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলকে সভাপতি পদ না দেওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের আচরণে বিরোধী দলের সংসদে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তিনি ভবিষ্যতে একই প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন হলে ওয়াকআউট করার হুমকি দেন। যদিও আজ ওয়াকআউটের ঘোষণা না দিলেও তাহেরের বক্তব্যের পরে বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইয়েদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা সংসদ কক্ষে অবস্থান করেন।
বুধবার বৈঠকে দিনের শেষ কার্যসূচি হিসেবে সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিরের প্রস্তাবে একে একে ১০টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠন শেষে সংসদের বৈঠকে সভাপতির দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করতে গেলে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর চান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
তাহের বলেন, সরকারি দলের সাথে আমরা বৈঠক করেছি। সেই বৈঠকে সংসদে প্রতিনিধিত্বের আনুপাতিক হারে ২৬ শতাংশ শেয়ার বিরোধী দল পাওয়ার কথা। সরকারি দল সেটি গ্রহণ করেছে এবং সদস্যের ব্যাপারে সরকারি দল তা পালন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সভাপতির পদেও তারা ২৬% পাবেন, কারণ এটি তাদের অধিকার। তিনি বলেন, সভাপতি কোন দল থেকে কত হবে, কী অনুপাতে হবে—এ বিষয়ে কার্যপ্রণালি বিধিতে কোনো উল্লেখ নেই। এক সময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে তাদের ১০টি সভাপতির পদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে তালিকাও নেওয়া হয়েছিল এবং তারা তালিকা জমাও দিয়েছেন।
বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, তার মনে হচ্ছে সরকারি দল টু-থার্ড মেজরিটির কারণে কিছুটা বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে। তারা নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং সেটাই এখানে প্রয়োগ করছে। সরকারি দলের আচরণে বিরোধী দলের সংসদে থাকার আগ্রহ ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
তার বক্তব্যের পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন এমন ইঙ্গিত দিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যখনই কোনো কথা বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কেউ জবাব না দিলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাঁড়িয়ে যান। তিনি একটি জবাব দেন।
তিনি বলেন, এটি খুবই অশোভন যে সরকারি দল যখন বলে যে আপনারা এই কমিটিতে আসেন তাহলে আপনাদেরকে এটা দেবো। তারা শিশু নয় যে তাদেরকে ললিপপ দেখানো হবে এবং পরে অন্যভাবে ডিল করা হবে।
বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, তারা সভাপতির পদ সরকারের কাছে চাইছেন এবং এটি তাদের অধিকার। সরকার এ অধিকারকে উপেক্ষা করছে।
আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, তারা তো এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না যে শতভাগ সভাপতি তারা নেবেন। এটি কোথায় লেখা আছে? এটি কি সংবিধানে আছে? তাহলে দ্য উইল অফ দ্য মেজরিটি পার্টি হ্যাজ বিকাম দ্য ল, দ্য ডিসিশন অফ দিস পার্লামেন্ট, এটাই তো স্বৈরাচার।
তাহের বলেন, স্বৈরাচার বলতে বোঝায়, আমি যা চাই, সেটাই আইন, সেটাই আমার আচরণ হবে। তারা এই পার্লামেন্টকে এভাবে দেখতে চান না। তাই তিনি মনে করেন সরকারি দল দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে সম্মান জানিয়ে নিজেদের পার্লামেন্ট এবং পার্লামেন্টের বাইরে বৈষম্য সৃষ্টি করা উচিত নয়। কারণ তারা আরেকটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চান না। বিরোধী দলকে কোনো সভাপতি পদ না দেওয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। ভবিষ্যতে এভাবে কমিটি গঠন হলে বিরোধী দল নাও থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, পরবর্তী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যদি একই নীতিমালা অনুসরণ করা হয়, তাহলে ওই সময় তারা সংসদে থাকতে নাও পারে।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, উপনেতা বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি এখন জবাব শুনতে চান না। সম্ভবত ওয়াকআউট নয়, তবে ওয়াকআউট। যাই হোক, ওই আরকি, তাল পড়িয়া ধপ করিল না পড়িয়া দপ করিল।
তিনি বলেন, বিরোধী দলের সদস্যদের আসনের অনুপাতিক হারে সভাপতি দেওয়া যাবে না, এটি কোথাও নেই, আবার বাধ্যবাধকতাও নেই। অতীতের ইতিহাসেও এমন কিছু দেখা যায়নি। তিনি বলেন, বিরোধী দলকে ১০টি সভাপতি দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হয়নি।
স্বৈরাচার বিষয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য থাকলেও বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত করেনি। বিএনপি যখন দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি থাকে এবং সরকার গঠন করে, তখন গণতন্ত্রের পদ্ধতিকে সুদৃঢ় করে।সালাহউদ্দিন বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেটা রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা তারা করেছেন, আমরাও করেছি। সেখানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি—এই সংসদীয় চর্চায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিতে সংখ্যার অনুপাতে, আসনের সংখ্যার অনুপাতে বিরোধী দলীয় সদস্যরা সভাপতিত্ব পাবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা যে অঙ্গীকার করেছেন তা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে, সংবিধান সংশোধিত হলে, তখন কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। আনুপাতিক হারে বিরোধী দল সভাপতি পাবে। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দল কোনো সহযোগিতায় আসছে না।
বিরোধী দলের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা বাইরে রাজনীতি না করে সংসদে আসুন। এখানেই কথা বলি। যদি সংবিধান সংশোধনীর জায়গায় আপনারা সংস্কার বলতে আরাম পান, তাহলে তাই বলবেন। কিন্তু সংশোধনী হিসেবে তো সংসদীয় ভাষায় এখানে এমেন্ডমেন্টটা গৃহীত হতে হবে।
দশটি কমিটি গঠন
রাজনৈতিকখবর আপডেট
কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে নিয়োগ করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে সেলিমা রহমান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে হুইপ রকিবুল ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে কলিম উদ্দিন আহমেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে আমানউল্লাহ আমান, পরিবেশ মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে হুইপ জি কে গউছকে, ভূমি মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে নাসের রহমান এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে রফিকুল ইসলাম জামালকে নিয়োগ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং ১১টি সংসদ সংক্রান্ত। এর মধ্যে ২৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত। এর মধ্যে সংসদ সম্পর্কিত একটি কমিটিতে বিরোধী দলের উপনেতাকে সভাপতি করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন