প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুর, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জলবায়ুর প্রভাবের কারণে ভরা মৌসুমে ইলিশের অভাব দেখা দিলেও, মৌসুমের শেষভাগে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ায় লক্ষ্মীপুরের মাছবাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দাম কমে যাওয়ায় ক্রেতারা স্বস্তিতে রয়েছেন।
ইলিশ গবেষকদের মতে, নদীতে মৌসুমের শেষভাগে ইলিশের ঝাঁক ফিরে আসা জেলেদের জন্য স্বস্তির খবর বয়ে এনেছে। পাশাপাশি, এটি জলবায়ু ও নদীর পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে ইলিশের অভিযোজনের একটি গুরুত্বর্পর্ণ ইঙ্গিতও দেয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকা কমে বর্তমানে ১৪ শ’ থেকে ১৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল ২ হাজার টাকার বেশি। দীর্ঘদিন পর জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় মাছঘাটগুলো আবারো সরগরম হয়ে উঠেছে। ফলে জেলে পল্লী ও মাছঘাটে জেলেরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। জালে ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে ও আড়ৎদারদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে।
জেলা মৎস্য অফিসের সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ’ কিলোমিটার ইলিশের অভয়াশ্রম। এখানে জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় ৫৩ হাজার জেলে মেঘনায় ইলিশ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ সময় প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ার কথা থাকলেও, সে পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গত কয়েকদিন ধরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় মৎস্য পল্লীগুলো ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। তবে মাছের আকার ছোট।
গত সপ্তাহের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দামও কমছে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। বর্তমানে সেটি ৭শ’ টাকা কমে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে, প্রকারভেদে প্রতি হালি মাছের দাম গড়ে ৭শ’ টাকা কমেছে।
এদিকে, সাগরের ইলিশের মাধ্যমে ইলিশের চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৩০টি মাছঘাটে মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলে ও আড়ৎদাররা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তারা আশা করছেন, জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।
জেলেরা জানান, এ মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ পাওয়ার কথা। কিন্তু সে পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ না পেলেও, কয়েকদিন ধরে মাছ পাওয়ায় জেলেরা খুশি।
জেলেরা আরও জানান, প্রকারভেদে মাছের দাম আগের তুলনায় একইভাবে কমছে। তারা আশা করছেন, সামনে আরো দাম কমবে। পাশাপাশি মাছের সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা করছেন জেলেরা।
মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতারা আশা করছেন, সামনে আরো দাম কমে আসবে। তবে, কোন তদারকি না থাকায় প্রতিনিয়ত ইলিশের দাম বাড়ছে। তাই ক্রেতা ও বিক্রেতারা বাজার স্থিতিশীল করার জন্য মনিটরিং করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, আজ বুধবার সকালে মুজচৌধুরীরহাট ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নৌকায় করে ঘাটে মাছ নিয়ে আসছেন জেলেরা। সবার চোখে-মুখে আনন্দের চিত্র। ক্রেতা-বিক্রেতার সরগমর জমে উঠছে মাছঘাট। সবাই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ঘাটে এক কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার টাকায়। গত তিনদিন আগে এ মাছের দাম ছিল সাড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। এর নিচে প্রকারভেদে কম দামে বিক্রি হচ্ছে রুপালি এ ইলিশ।
মতিরহাটের লিটন মাঝি বাসস’কে জানান, নদীতে মাছ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন নদীর পাড়ে অলস সময় কাটাতে হয়েছে। সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায়, ফলে ঘাটে মাছ বিক্রি করে আবারো নদীতে মাছ শিকারে নামছেন। এভাবে মাছ পেলে আর কোন কষ্ট থাকবে না।
ক্রেতা মো. তুষার ইসলাম ও সালামত উল্যাহ বলেন, মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কিছুটা কমছে। তবে, কোন তদারকি না থাকায় প্রতিনিয়ত ইলিশের দাম বাড়ছে। তাই তারা বাজার স্থিতিশীল করার জন্য মনিটরিং করার দাবি জানান।
জেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র পরিচালক মো. লুৎফুর রহমান বাসস’কে বলেন, গত কয়েকদিনের তুলনায় সাগরের পাশাপাশি মেঘনায় ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সামনে আরো বাড়ার আশা করছেন তিনি। তিনি জানান, ইলিশের সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম কমে আসবে।
তিনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৬ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এ সময় অভিযান সফল করতে প্রশাসন কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন