প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জন্মদাতা পিতাকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুত্রকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে। বরিশালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১৬ বছর পর এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
একই মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে। দন্ডিত পুত্র পলাশ হাওলাদার পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, দন্ডিত পুত্র পলাশ হাওলাদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দ সাহা গ্রামের মৃত আলী আকবর হাওলাদারের ছেলে। মামলার অপর আসামি কাওসার হাওলাদার ও মিজান হাওলাদারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরও বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার বাদি নিহত আলী আকবর হাওলাদারের অপর পুত্র মো. শহিদ হাওলাদার এজাহারে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের মা দীর্ঘদিন পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের পিতা একজন দিনমজুর ছিলেন। শহিদ জানান, তার মেঝ ভাই পলাশ সাকরাল গ্রামের ইসমাইল হোসেনের কন্যা জোছনা আক্তারকে বিয়ে করে প্রায় একবছর সংসার করে। পরে সে (পলাশ) পরিবারের সকলের অমতে ভদ্রসা গ্রামের শাহ আলম রাঢ়ীর কন্যা সুইটি বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে শশুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে।
শহিদ আরও উল্লেখ করেন, প্রায়ই পলাশ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে উঠতে চাইলে তার বাবা বাঁধা প্রদান করতেন। এতে পলাশের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে পলাশের প্রথম স্ত্রী জোছনা বেগমকে কোনো প্রকার ভরণপোষণ না দেওয়ায় তিনি (জোছনা) পলাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পলাশ কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে বের হয়ে আসে।
বাদি বলেন, ওই মামলা দায়েরের জন্য পলাশ তার বাবা আলী আকবরের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। ফলে কারাভোগের প্রতিশোধ নিতে পলাশ মরিয়া হয়ে ওঠে। ২০১০ সালের ২ মে সন্ধ্যার পর পলাশের সাথে তাদের পিতার তুমুল বাগবিতন্ডা হয়। ওইদিন দিবাগত মধ্যরাতে পলাশসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন ব্যক্তি তার ঘুমন্ত পিতাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরের দিন (৩ মে) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে প্রতিবেশী আলমগীর হাওলাদার তাদের পিতাকে পাশ্ববর্তী একটি ধান ক্ষেতে হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং চোখমুখ গামছা দিয়ে বাঁধাসহ রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং তাদের (শহিদ) বাড়িতে খবর দেন।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুমূর্ষ অবস্থায় তাদের বাবা আলী আকবর হাওলাদারকে উদ্ধার করে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার (আলী আকবর) মৃত্যু হয়। এরপর নিহতের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়।
এহাজারে উল্লেখ রয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সযোগে আলী আকবরকে বরিশালে নেয়ার সময় পলাশ অ্যাম্বুলেন্সে উঠে তার বাবার গায়ে হাত দিতে গেলে তার বাবা পলাশের হাত সরিয়ে দেন। তবে সেসময় তিনি (আলী আকবর) মুখে কোনো কথা বলতে পারেননি। এতে বাদির সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে বাদির ছোট ভাই সবুজের কাছ থেকে ওইদিন রাতে পলাশ ও তার সহযোগিরা বাবাকে ডেকে নিয়ে যাবার ঘটনা শুনে থানায় এসে তিনি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৫ মার্চ উজিরপুর মডেল থানার ওসি সুকুমার রায় আদালতে তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলায় একাধিক স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার বিচারক উল্লেখিত রায় ঘোষণা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন