প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নওগাঁয় পরিবহন শ্রমিকরা অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন। এই ধর্মঘটটি বাসচালক ও সুপারভাইজারকে মারধরের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের বাস চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ করে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের ফলে সাধারণ যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
জানা গেছে, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোর সময় অটোরিকশা (সিএনজি) চালক ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসচালক রুবেল হোসেন এবং এক সুপারভাইজারকে সিএনজিচালকেরা অতর্কিত মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার বিচার এবং মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা সকাল থেকে ধর্মঘটের ডাক দেন।
বাস মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অটোরিকশা ও সিএনজি শহরের বাইরে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। কিন্তু এই নিয়ম অমান্য করে আঞ্চলিক মহাসড়কেও অবাধে এসব অবৈধ যান চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ও শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ না হলে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে বাস বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। বিকল্প বাহন হিসেবে অন্য যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।
সাপাহার থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা আফসার আলী জানান, "বাসস্ট্যান্ডে এসে দেখি কোনো বাস চলছে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে তিন দফায় নওগাঁ শহরে আসতে হয়েছে। যেখানে ১৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা লেগেছে, আর সময়ও নষ্ট হয়েছে প্রায় দেড় ঘণ্টা।"
মান্দাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, "বাসশ্রমিক আর অটোরিকশাচালকদের বিরোধের খেসারত সবসময় সাধারণ মানুষকে দিতে হয়। জরুরি কাজে বের হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হলো।"
নওগাঁ জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, "এ বিষয়ে অটোরিকশা (সিএনজি) মালিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখনো কোনো সুরাহা বা সমাধান হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত দোষী আসামিরা গ্রেপ্তার না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই বাস ধর্মঘট ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।"
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ ব্যানার্জী জানান, "বাস চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।"
তিনি আরও জানান, "এ ঘটনায় ইতোমধ্যে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন