শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩০ পি.এম
বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনী বাজার ও ডিজিটাল বিপণনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)চালিত প্রোগ্রাম্যাটিক অ্যাড-বাইং প্ল্যাটফর্ম অ্যাডজোইক (AdZoic)।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে সেলস ইন্টেলিজেন্স ও ডিজিটাল মার্কেটিংকে একীভূত করে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম আম্ব্রেলাএক্স (Umbrellax)-এর সমন্বিত ইকোসিস্টেমও উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অ্যাডজোইকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্ত চ্যাটার্জী মন্তব্য করেন, প্রথাগত পদ্ধতিতে অনুমাননির্ভর বিজ্ঞাপন পরিচালনার ফলে উদ্যোক্তা ও ব্র্যান্ডগুলোর অর্থ ও সময় অপচয় হচ্ছে। ডিএসেলসের (DSales) ডেটা ও সেলস ইন্টেলিজেন্সের ভিত্তিতে তৈরি অ্যাডজোইক সঠিক ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে কম খরচে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে ব্র্যান্ডগুলোকে সহায়তা করবে।
প্ল্যাটফর্মটির প্রযুক্তিগত কৌশল ও কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ টেকনোলজি অফিসার টিপু আরবিদ বলেন, অ্যাডজোইক সাধারণ কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা টুল নয়; বরং এটি একটি ডিমান্ড-সাইড প্ল্যাটফর্ম (ডিএসপি)। কোনো তৃতীয় পক্ষের কুকির ওপর নির্ভর না করে, প্ল্যাটফর্মটি ১০ মিলিসেকেন্ডের কম সময়ে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। পাশাপাশি ১০০ মিলিসেকেন্ডের ডিজিটাল নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বনিম্ন খরচে উপযুক্ত বিজ্ঞাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এটি।
অনুষ্ঠানে অ্যাডজোইকের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন ও উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্ত চ্যাটার্জী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. এম. আমিনুর রহমান এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার টিপু আরবিদ।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. এম. আমিনুর রহমান বিজ্ঞাপনী সংস্থা, প্রকাশক ও ব্র্যান্ডগুলোকে এআইনির্ভর নতুন এই ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিএসেলসের (DSales) ছাতার নিচে গড়ে ওঠা অ্যাডজোইক ও আম্ব্রেলাএক্স যৌথভাবে ডিজিটাল প্রোগ্রাম্যাটিক বিজ্ঞাপন, ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং ও সেলস অটোমেশনকে একটি সমন্বিত স্মার্ট ড্যাশবোর্ডে নিয়ে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই সমন্বিত ব্যবস্থা এশিয়ার ডিজিটাল ব্যবসা ও বিপণন ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশব্যাপী সমালোচিত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান র্যাবের অপকর্মের দায় বিএনপি বহন করতে পারে না। জনগণের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণ করার লক্ষ্যে র্যাবকে বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী এসআরবি গঠন করা হয়েছে। নতুন বাহিনী জনগণের পাশে থেকে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন, "বিরোধীদলের যদি কোন মতামত থাকে তবে তা সাদরে গ্রহণ করা হবে।" তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারি ও বিরোধী দলের মতামত ও ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের সিদ্দিকীয়া আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান উল্লেখ করেছেন, "ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ভারত থেকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।" তিনি জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা হাদি হত্যাকারীদের ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব ভারতের কাছে রাখা হয়েছে। এই দুটি দাবি পূরণ হলেই কেবল প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়টি নিয়ে ভাবা সম্ভব।
তিনি বলেন, "বাংলাদেশ এখন কোনো দেশের চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করবে না।" দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি জানান, "ভঙ্গুর অর্থনীতি ও সংকটাপন্ন একটি দেশকে সংস্কারের মাধ্যমে সুন্দর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।" এ অবস্থায় বিরোধী দলগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। তবে, দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে বিরোধীদল সরকারের পাশে না দাঁড়িয়ে রোড মারচ নিয়ে ব্যস্ত। রোড মারছ রোড মারচ করে যদি তেল গ্যাসের সমস্যার সমাধান করা যেত, বিএনপির সবার আগে রোড মারছ করতো।
তিনি বলেন, "ছোট ছোট যেসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে বসে সমাধান করা যায়, সেগুলোকে বড় আকার দিয়ে সরকারকে বিব্রত করা উচিত নয়।" সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, "সংসদে রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের ভাষা ব্যবহার করছেন। তার মধ্যে আমি পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ছবি দেখতে পাই।" আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা যে ভাষায় কথা বলেন, রুমিন আপাও সে ভাষায় কথা বলছেন। তিনি উল্লেখ করেন, "বিএনপি থেকে বঞ্চিত হয়ে যে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সেটা তার স্বার্থগত রূপ।"
জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "তেল-গ্যাস সংকটের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামী সঠিক রাজনৈতিক পথ বেছে নেয়নি।" সরকার যখন ভারতবিরোধী ও আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থানে রয়েছে, তখন সরকারের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো আওয়ামী লীগের সুরে সুর মিলিয়ে এনসিপিও জামায়াত যে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।
র্যাব বিলুপ্তির প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, "র্যাবের খুন-গুমের কলঙ্ক বিএনপি সরকার টানতে পারে না।" শেখ হাসিনা র্যাবকে খুন-গুমের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এই কারণে সারা বাংলাদেশে র্যাব বিলুপ্তির দাবি উঠেছিল।
তিনি বলেন, "সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সংসদে র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি (SRB) নামে নতুন একটি বাহিনী গঠন করেছে।" নতুন এই বাহিনীর কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এসআরবি অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, "দল যাকে মনোনয়ন দেবে, দলের সব নেতাকর্মীকে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে।" দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে বা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, বিএনপি নেতা শাহাজান আলী, যুবদল নেতা মনিরুল ইসলাম এবং ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এস এম সোমেনুজ্জামান সোমেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহে সংঘটিত একটি দুর্ঘটনায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষের ফলে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর আকুয়া বাইপাস মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁর নাম মো. সাদেক আলী (২৭)। তিনি ফুলবাড়িয়া উপজেলার চৌদার গ্রামের আব্দুল খালেকের পুত্র।
অন্য একজন নারীরও মৃত্যু ঘটেছে। উভয়েই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আল আমিন।
তিনি জানান, সাদেক আলীর একজন স্বজন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁকে দেখতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন সাদেক। অটোরিকশায় চালকসহ আরও চারজন যাত্রী ছিলেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আকুয়া বাইপাস মোড়ের কাছে এসে একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নারীর মৃত্যু ঘটে। এ সময় আহত হন আরও পাঁচজন। আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদেক আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক আজ জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে উল্লেখ করেন, আল্লাহ নবুওয়াতের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন আখেরি নবী (সা.) এর আগমনের মাধ্যমে। তিনি বলেন, বিশ্ব নবী (সা.) হলেন সর্বশেষ নবী। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আমাদের নবীর ওপর ঈমান আনতে হবে। আল্লাহ সর্বশেষ কিতাব আল কুরআন রাসূল (সা.) এর মাধ্যমে নাজিল করেছেন। পবিত্র কুরআন থেকে যারা বঞ্চিত হবে, তাদের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কোনো পথ নেই। কুরআনের ওপর যারা ঈমান এনেছে, তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত। কুরআনকে অস্বীকারকারীদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। কুরআন থেকে বিচ্যুত হয়ে হেদায়েতের রাস্তা পাওয়া সম্ভব নয়। কুরআনের শরীয়ত আখেরি শরীয়ত। বিকৃত শরীয়তের দিকে যাওয়া যাবে না। আল্লাহ আখেরি শরীয়তকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। রহিত ও বিকৃত শরীয়ত অনুসরণ করলে ঈমান থাকবে না।
খতিব আরও বলেন, পশ্চিমা সংস্কৃতি জাহেলিয়াত পূর্ণ সংস্কৃতি। কুরআন ছেড়ে যারা জাহেলি সংস্কৃতি অনুসরণ করবে, তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। তিনি বলেন, এলমে অহীর জ্ঞান থেকে বঞ্চিত ব্যক্তিরাই পথভ্রষ্ট হয়। খতিব বলেন, আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, "কুরআন আমি নাজিল করেছি, এর হেফাজত ও সংরক্ষণ আমিই করবো।" ইসলামের শরীয়ত কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। ইসলামের শরীয়তকে পরিবর্তনের কোনো অবকাশ নেই। পবিত্র কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষত থাকবে। কুরআনের কোনো নির্দেশনাকে পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।
ঢাকা মুগদা ব্যাংক কলোনি রসুলবাগ জামে মসজিদের খতিব মুফতি রাহমাতুল্লাহ তাক্বী বিন আব্দুল গনি আজ জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে তৈরি করেছেন। তবে মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ইবলিস শয়তান। শয়তানের প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করা, শরীয়তের বিধি-বিধানের ব্যাপারে অনীহা তৈরি করা, প্ররোচনার মাধ্যমে জাহান্নামের অধিবাসী বানানো এবং শরীয়তের বিরোধিতার জন্য অন্তরে ওয়াসওয়াসা (কুমন্ত্রণা) দেওয়া।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন, "নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু, তাই তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো। সে তো তার দলকে কেবল এজন্যই ডাকে, যেন তারা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী হয়।" (সূরা ফাতির: ৬) শয়তান একবারে মানুষকে বড় পাপে লিপ্ত করে না; বরং চতুর উপায়ে অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয় এবং পাপকাজকে আকর্ষণীয় করে তোলে। সে আল্লাহর কাছে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল, সে মানুষকে সব দিক থেকে আক্রমণ করে পথভ্রষ্ট করবে: "সে বলল, ‘আপনি যে আমাকে পথভ্রষ্ট করলেন, তার কারণে আমি অবশ্যই আপনার সরল পথে তাদের জন্য ওত পেতে বসে থাকব।’" (সূরা আল-আ’রাফ: ১৬) কিছুদিন পর পর আমরা দেখি, শয়তানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য শয়তানের প্ররোচনায় কিছু মানুষের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের শরীয়তবিরোধী কর্মকাণ্ড মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বর্তমান সময়ে শরীয়তবিরোধী ‘হেবা’ (দান) আইনকে মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, যা স্পষ্ট কুরআন ও হাদিসের বিধানের পরিপন্থী। এ ধরনের কোনো বিষয় মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয় এবং সচেতন মুসলিম জনগণ কখনো তা মেনে নেবে না। দেশের দায়িত্বশীলদের উচিত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি ও চাহিদা বুঝে সে অনুযায়ী নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করা। তা না হলে এর সাথে জড়িত সকলেই শয়তান ও তাগুতের এজেন্ট হিসেবে সাব্যস্ত হবে, নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনবে এবং পর্যায়ক্রমে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
তিনি বলেন, শয়তানের এই প্ররোচনা মানুষের জীবনের রগে রগে মিশে যায়। হাদিস শরীফে রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রগে রগে রক্তের মতো প্রবাহিত হয়।" (সহিহ বুখারি) বর্তমান সময়ে শয়তানি চক্রান্তের অন্যতম বড় প্রকাশ হলো সমাজের নানামুখী ফিতনা, দ্বীনি ইলমের অভাব এবং সৃষ্টির স্বাভাবিক সৌন্দর্য বিকৃতি। শেষ জামানায় দ্বীনি অজ্ঞতা ও পাপাচারের সয়লাব সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, "কিয়ামতের কিছু নিদর্শন হলো: দ্বীনি ইলম উঠে যাবে, মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে, মদ্যপান বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যভিচার প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়বে।" (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) এমন নাজুক পরিস্থিতিতে শয়তানের প্রবঞ্চনা ও ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার মূল উপায় হলো ইখলাসের সাথে আল্লাহর জিকির ও তাঁর আশ্রয় প্রার্থনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, "শয়তান তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে এবং তাদেরকে আল্লাহর জিকির ভুলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়তানের দল। জেনে রাখো! শয়তানের দলই চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত।" (সূরা আল-মুজাদালাহ: ১৯) আর সালাতে বা দৈনন্দিন জীবনে শয়তানের কুমন্ত্রণা অনুভব করলে নবীজি (সা.) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে এবং ইখলাসের সাথে তাওহীদের কালিমা জপতে শিক্ষা দিয়েছেন। আসুন, আমরা কুরআনের হেদায়েত ও সুন্নাহর আলোয় নিজেদের জীবন সাজাই এবং শয়তানের যাবতীয় চক্রান্ত থেকে আল্লাহর দরবারে হিফাজত প্রার্থনা করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটি ডায়াবেটিক সমিতি পরিচালিত রাঙামাটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল, ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি এবার হৃদরোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা প্রদান করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হাসপাতালটি প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে হৃদরোগীদের জন্য এই বিশেষ চিকিৎসাসেবা চালু করবে, যা রাঙামাটি কেন্দ্রিয় কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।
এ উদ্যোগের ঘোষণা শুক্রবার সকালের একটি সভায় করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, যিনি রাঙামাটি ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি। সভায় উপস্থিত ছিলেন ডা. পরশ খীসা, যিনি সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মনিরুজ্জামান মহসীন রানা, এবং রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. শুভ্রসোম চাকমা সহ অন্যান্য কার্যকরী কমিটির সদস্যরা।
সভায় জানানো হয় যে, রাঙামাটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল দীর্ঘকাল ধরে ডায়াবেটিস রোগীদের পাশাপাশি সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবাও নিয়মিতভাবে দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্দেশ্যে এবার হৃদরোগের চিকিৎসাসেবা স্বল্পমূল্যে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাঙামাটিতে হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে জেলা শহরের বাইরে যেতে হয়, যা রোগীদের জন্য অতিরিক্ত সময় ও অর্থের ব্যয় সৃষ্টি করে। ডায়াবেটিক হাসপাতালে নিয়মিত হৃদরোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা চালু হলে জেলার সাধারণ ও নিম্নআয়ের রোগীরা তুলনামূলক কম খরচে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
ডা. পরশ খীসা, রাঙামাটি ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বলেন, "মানুষের সেবার উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাইরে থেকে নিয়মিত কোনো আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় নিজেদের অর্থেই হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। আর্থিক সংকটের মধ্যেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, "চিকিৎসক ও কর্মীদের বেতনসহ হাসপাতালের অন্যান্য ব্যয় বহন করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।" তবে রোগীদের স্বার্থে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। হাসপাতালের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে চালিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
রাঙামাটিতে স্বল্পমূল্যে হৃদরোগের বিশেষ চিকিৎসাসেবা চালু হওয়ায় স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং তারা নিজ জেলাতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ