প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ প্রায় ২যুগ ধরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকটসহ বিভিন্ন প্রকার সমস্যা বিদ্যমান। স্বাস্থ্য সেবা জনগণের মৌলিক অধিকার হলেও এখানে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগে রোগীদের প্রচণ্ড ভিড়। বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের সামনে দীর্ঘ লাইনের সারি দেখা যায়। গড়ে প্রতিদিন ৮শ থেকে ৯শ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগেও প্রায় প্রতিদিন একশ থেকে দেড়শ জন রোগী সেবা নিতে আসেন। সম্প্রতি, আটোয়ারী উপজেলার প্রায় দেড় / দুই লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রধান আশ্রয়স্থল ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। বর্তমানে ৪০টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন চিকিৎসক। ৩য় শ্রেণীর অনুমোদিত ৭২ জন পদের মধ্যে ৩০ জন এবং ৪র্থ শ্রেণীর ৩০ জন পদের মধ্যে ২২টি পদ শুন্য রয়েছে। ডাক্তার ও জনবল সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত হিমশিম ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ সেবাপ্রার্থীরা। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১০৪ জন পর্যন্ত রোগী ভর্তি থাকার খবর পাওয়া গেছে। বাড়তি রোগীদের হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।
তবে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ব্যবহার করা হলেও তা অপ্রতুল। হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনসহ আধুনিক মানের প্যাথলজিক্যাল ল্যাব রয়েছে। জরুরি এক্স-রে সহ অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালে করা যায়, তবে টেকনিশিয়ান পর্যাপ্ত না থাকায় ল্যাবের একজন টেকনিশিয়ানকে সেবা দিতে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতি সহ অপারেশন থিয়েটার থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। ২০২১ সালের শেষের দিকে সিজারিয়ান কার্যক্রম চালু হলেও, ২০২৪ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। এই দুই বছরে আটোয়ারী হাসপাতালে প্রায় শতাধিক সিজারিয়ান রোগী সহ ২৫৫টি সার্জিক্যাল অপারেশন করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বন্ধের কারণ হিসেবে জানা গেছে, হাসপাতালে সার্জিক্যাল ডাক্তার ও অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার না থাকায় অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রাখা হয়েছে।
সিজারিয়ানসহ সকল অপারেশন চালু থাকলে, এলাকার গরিব অসহায় পরিবারগুলোর সময় ও অর্থ দুটোই বেঁচে যাবে বলে অনেকে এ প্রতিবেদককে জানান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। স্বল্প জনবল নিয়ে আমরা আমাদের সাধ্যমতো রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি পর্যাপ্ত জনবল পেলে অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সহ সেবার মান আরও বৃদ্ধি করা যাবে। একমাত্র হাসপাতালের সকল প্রকার সংকট নিরসনের জন্য উপজেলার সাধারণ মানুষসহ এলাকার সুধীজন পঞ্চগড়-১ আসনের এমপি সহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সকল উর্ধতন ব্যক্তিদের সু-নজরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন