প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি চলন্ত বিমানের মাঝ আকাশে আচমকাই দরজা খুলে নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর (বিমান চালনা শিক্ষক)। উড্ডয়নরত অবস্থায় শিক্ষক লাফ দিলেও তা সত্ত্বেও এক ২২ বছর বয়সী অনভিজ্ঞ ছাত্রী বিমানটিকে অতি বিচক্ষণতার সাথে নিরাপদে মাটিতে নামিয়ে এনেছেন।
এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে আর্জেন্টিনার মধ্যাঞ্চলের টোলেডো শহরে গত শনিবার। বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে। নিহত পাইলটের নাম হল লিয়েন্দ্রো আন্দ্রেস বার্টাজো (৪২)।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিএন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্টাজো সেসনা ১৫০ মডেলের একটি ছোট প্রশিক্ষণ বিমানে ২২ বছর বয়সী রোজারিও নামের শিক্ষার্থীকে নিয়ে উড়াল দিয়েছিলেন। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে রোজারিও জানান, বিমানটিতে মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় বার্টাজো হঠাৎ বলেন, “তুমি জানো তোমাকে কী করতে হবে, চালাতে থাকো।” এরপর তিনি মাথার হেডসেট ও সিটবেল্ট খুলে ফেলেন এবং বিমানের দরজা খুলে নিচে ঝাঁপ দিয়ে পড়েন।
ফ্লাইং প্যারট কর্ডোবা ফ্লাইং স্কুলের পরিচালক এদুয়ার্দো আলভারেজ জানান, বার্টাজো অত্যন্ত অভিজ্ঞ পাইলট ছিলেন এবং পার্শ্ববর্তী দেশ চিলিতেও ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। সকালেও তিনি অন্য এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে সফলভাবে ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন। তার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের আগে কোনো পূর্বাভাস ছিল না। আলভারেজ আরও জানিয়েছেন, “তিনি (বার্টাজো) পাশে অন্য একজন মানুষ থাকা অবস্থায় বিমানের ভেতর এই দুঃখজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মানুষের মন এত জটিল যে এটা ভাবা বা বোঝা অসম্ভব।''
চলন্ত অবস্থায় বিমানের দরজা খোলা অত্যন্ত কঠিন উল্লেখ করে আলভারেজ বলেন, এটি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে চলা গাড়ির দরজা খোলার মতো প্রতিরোধী বাতাসের মুখোমুখি হওয়ার মতো।
শিক্ষকের এই আকস্মিক আত্মহননে Schüler রোজারিও সম্পূর্ণ স্তব্ধ ও বড় ধাক্কা খেয়ে যাওয়ার পরও খুব সাহসিকতার সাথে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। এই রহস্যময় আত্মহত্যার ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ ছিল, তা জানতে দেশটির সরকারি আইনজীবীরা তদন্ত শুরু করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন