প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘটেছে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, যা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে আটটার সময়ে পৌর শহরের মাছবাজার-সংলগ্ন সদর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন (৪০) অকপটে বলেন, তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত এবং জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা-এর কলাপাড়া প্রতিনিধি। হামলার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, রাত ৮টার দিকে তিনি মোবাইল ফোন মেরামতের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেই সময় উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ফাহিম এবং সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেলালের নেতৃত্বে ৭–৮ জন তার ওপর দুই দফা হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
মোয়াজ্জেম হোসেনের দাবি, গত ২১ জুন শহরের স্লুইস এলাকায় তার বোনের বাড়িতে হামলার একটি ঘটনা সমস্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সংবাদ প্রকাশের জেরেই তার ওপর এবারের হামলা চালানো হয়েছে।
দোকানি লোকমানের ভাষ্যমতে, তার প্রতিষ্ঠান থেকে মোয়াজ্জেম হোসেনকে টেনে বাইরে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয়। তিনি হামলাটিকে ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
অথচ অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনে কথা বলতে রাজি হননি। অন্যদিকে বেলাল অভিযোগ অস্বীকার করে মন্তব্য করেন, এলএলবি পরীক্ষায় অংশ নিতে সারাদিন বরিশালে ছিলেন। সন্ধ্যের পর এলাকায় ফিরে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি বলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। হামলার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তার পক্ষে কিছু জানা নেই। তিনি অন্যদের কাছ থেকে ঘটনাটির কথা শুনেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব জাকারিয়া আহমেদ মন্তব্য করেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার জানান, আহত সাংবাদিককে তিনি হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন এবং বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি এ বিষয়ে জানেন এবং খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন