মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
১১:০৪ পি.এম
নারায়ণগঞ্জ জেলার নবনির্বাচিত এনডি এর চেয়ারম্যান জনাব মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়, চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে। সংবর্ধনাটি প্রদান করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এছাড়াও, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, রূপগঞ্জ সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, আলহাজ্ব মোঃ হানিফ সরদার, সাবেক কমিশনার শওকত হাশেম শূকু এবং মোহাম্মদ দাদা সেলিম এর একটি দল নবনির্বাচিত এন ডি এর চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে সংবর্ধনা প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়নমনসিংহের ভালুকায় নয় মাসের গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে রেখে ছেলে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন বিল্লাল হোসেন নামের এক বাসচালক। কোরবানির ঈদের আগে থেকে নিখোঁজ ওই ব্যক্তি এরপর আর স্ত্রী-সন্তানদের কোনো খোঁজ নেননি।
আশ্রয়হীন হয়ে কয়েকদিন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মানবেতর জীবন কাটানোর পর বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার। মাহমুদা আক্তার বলেন, প্রায় আট বছর আগে ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে আছিয়া আক্তার মীম (৭), মাহমুদুজ্জামান ইয়াসিন (৭) ও হাফসা জীম (দেড় বছর) রয়েছে। মীম ও ইয়াসিন জমজ।
তার অভিযোগ, কোরবানির ঈদের আগে স্বামী নতুন বাসায় ওঠার পর ছেলে ইয়াসিনকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। ফোনও বন্ধ রয়েছে। ভাড়া বকেয়া থাকায় বাসার মালিক তাকে দুই মেয়েকে নিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন।
মাহমুদা বলেন, স্বামীর ব্যবসার জন্য বাবার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি নিঃস্ব। বাবাও বেঁচে নেই, ভাইদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ নেই। যাওয়ার মতো কোনো জায়গা না থাকায় দুই মেয়েকে নিয়ে গত ১৫ জুলাই রাতে ভালুকা ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকার বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের পাশে একটি টিনশেডে আশ্রয় নেন। স্থানীয় ট্রাকচালক ও দোকানদারদের দেওয়া কলা, বিস্কুটসহ সামান্য খাবার খেয়ে কয়েকদিন কাটান।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে স্বামী প্রায়ই তার ওপর নির্যাতন করতেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী মোস্তানছির বিল্লা জোহাদ জানান, ওই নারী ও তার দুই শিশুকে আশ্রয়হীন অবস্থায় দেখে কয়েকদিন ধরে স্থানীয়রা খাবারের ব্যবস্থা করেন। পরে গত ১৯ জুলাই রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহেদা ফেরদৌসী হাসপাতালে গিয়ে মাহমুদা ও তার দুই শিশুর খোঁজখবর নেন। এদিকে, ভালুকায় হ্যামকো ব্যাটারির এজেন্ট মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, বিল্লাল হোসেন তার প্রতিষ্ঠানের বাসচালক ছিলেন। কোরবানির ঈদের পর তিনি গাড়ির প্রায় ২০০ লিটার জ্বালানি বিক্রি করে এবং তিন দিনের প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তার স্বামী নিখোঁজ। শ্বশুরবাড়ি কিংবা বাবার বাড়ির কোনো আত্মীয়স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। আপাতত পৌরসভার পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রীতি ভারতে থাকেন না। বিয়ের পর তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে সংসার পেতেছেন। তবে ভারতে তাঁর যাতায়াত লেগেই থাকে। দিল্লির রাজপথে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ দেখে প্রীতি সরকারের উদ্দেশ্যে কী বলেছেন?
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সংসদ অভিযানের কর্মসূচি ছিল পড়ুয়াদের। অভিযানের পথে তাঁদের লক্ষ্য করে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জও হয়, এতে বহু ছাত্রছাত্রী আহত হয়েছে। এমন সব ঘটনায় নানা ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর পরই পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের একাধিক তারকা। বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শবানা আজমী নিজে উপস্থিত ছিলেন সেই মিছিলে। ৭৫ বছর বয়সী শবানাকে পড়ুয়াদের সঙ্গে দিল্লির রাজপথে হাঁটতে দেখা গেছে। পুলিশের কাঁদানে গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এবার সরকারের উদ্দেশ্যে বার্তা পাঠিয়েছেন অভিনেত্রী প্রীতি জিন্টা।
তিনি ভারতে থাকেন না। বিয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে সংসার পেতেছেন প্রীতি। তবে ভারতে যাতায়াত লেগেই থাকে। এবার প্রীতি সরকারের কাছে অনুরোধ করে লিখেছেন, "আশা করব, এবার সরকার ছাত্রদের সঙ্গে এবং সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে ফলপ্রসূ কিছু কথাবার্তা বলবে, যাতে তাঁদের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ না হয়।" পাশাপাশি, দেশের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সোনমকে অনুরোধ করেছেন, "আপনি দয়া করে অনশন ভাঙুন। এই লড়াইটা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই আপনার সুস্থ থাকাটা দরকার। আপনি এবং আমাদের ছাত্রেরা দেশের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করছে। যাঁরা এই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত করার জন্য লড়াই করছেন, তাঁদের প্রতি আমার ভালোবাসা রইল।"
উল্লেখ্য, সোমবার কাকরোচ জনতা পার্টির অভিযান আটকাতে ঢাকার মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল দিল্লিতে। চতুর্দিকে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়, ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়। অর্থাৎ, পাঁচ বা ততোধিক মানুষের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। মিছিল আটকাতে লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস নিয়ে তৈরি ছিল পুলিশ। তবে পুলিশের এত "বাধা" কাটিয়ে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে যায় বিক্ষোভকারীরা। যদিও শেষ পর্যন্ত সংসদ ভবন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি তাঁরা। এর আগেই পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। অভিযোগ, জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। কাঁদানে গ্যাসও ছোড়া হয়। ধরপাকড় করে পুলিশ। শেষপর্যন্ত কাকারোচ দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি হয় সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। মোটামুটি ১০ মিনিট কথা হয় তাঁদের। জানা গেছে, মন্ত্রীর কাছে নিজেদের দাবিপত্র জমা দেন কাকারোচ দলের প্রতিনিধিরা। সেইসব দাবি নিয়ে সরকার আলোচনা করবে বলে জানান মন্ত্রী। তবে এখনও সোনম অনশন ভাঙেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিয়ারা আডবাণী তার স্বামী সিদ্ধার্থ মলহোত্রের পাশে থেকে কঠিন সময় কিভাবে কাটাচ্ছেন, সে বিষয়টি নিয়ে অভিনেত্রী একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছিলেন। সেই পুরনো মন্তব্য আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
‘টক্সিক’ ছবির ঝলক প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই কিয়ারা আডবাণীর বিরুদ্ধে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ‘তবাহি’ গানটি মুক্তির পর থেকে তিনি একাধিক কটাক্ষের মুখে পড়েছেন। গানটির দৃশ্যে কিয়ারা ও যশের মধ্যে উদ্দাম ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শিত হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, কিয়ারা অতিরিক্ত সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। এই কারণে নানা রকমের ট্রোলিং-এর শিকার হতে হচ্ছে কিয়ারা আয় ডবাণীকে। এমন পরিস্থিতিতে দর্শকরা জানতে ইচ্ছুক যে, সিদ্ধার্থ মলহোত্র কীভাবে তার স্ত্রীর পাশে রয়েছেন।
কিয়ারা এই কঠিন সময়ের মধ্যে সিদ্ধার্থ তার স্ত্রীর মনোবলকে কোনভাবে শক্ত করেন, সে বিষয় নিয়েও তিনি এক পুরনো সাক্ষাৎকারে আলোচনা করেছিলেন। কিয়ারা বলেন, “সমাজমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য আমাকে খুবই প্রভাবিত করেছিল। তখন আমি এসব বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে কথা বলিনি। কিন্তু সিদ্ধার্থ নিজেও সব কিছু দেখেছিল। তবে প্রথমে কিছু বলেনি।”
পরে সিদ্ধার্থ তাকে বোঝান। কিয়ারা বলেছিলেন, “তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘দেখো, নেতিবাচক মন্তব্য সবসময়ই থাকবে। কিন্তু তুমি যদি এগুলোকে এত গুরুত্ব দাও, বাড়িতে বসে কাঁদো আর মনে করো সব শেষ হয়ে গেছে, তাহলে সমস্যা হবে। তোমরা তাদের চেনো না, তারাও তোমাকে চেনে না। সময়ের সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তুমি কেন এগুলোকে এত গুরুত্ব দিচ্ছ?’” সিদ্ধার্থের এই উক্তি কিয়ারা আডবাণীর মনে সাহস জুগিয়েছিল এবং তিনি মনে করেছিলেন যে, “যদি সিদ্ধার্থ এরূপ পরিণতির দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে কেন আমি এত ভেঙে পড়ছি?”
তবে, এটি একটি পুরনো ভিডিওর মন্তব্য। পর্দায় যশের সঙ্গে কিয়ারার ঘনিষ্ঠতার ব্যাপারে সিদ্ধার্থের প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের একের পর এক বিতর্কিত ঘটনা দলটিকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে ঘটনার প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে দলটির ভেতরে শৃঙ্খলাভঙ্গ, বিদ্রোহী প্রার্থী, সাংবাদিকের ওপর হামলা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের মতো একাধিক ঘটনায় দীর্ঘদিনের ‘সুশৃঙ্খল দল’ হিসেবে জামায়াতের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে।
গাজী নজরুল ইসলাম তাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ্যে এলো, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে জানান, বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজখবর নেওয়া হবে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। অনেকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, গত ১৭ বছর রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। একইসঙ্গে দলটির সাংগঠনিক বিস্তার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে যাওয়ার ফলে তৃণমূল পর্যায়ে সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান বিতরণকে ঘিরে একটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তার মেয়ের নাম রয়েছে— এমন অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তার ব্যক্তিগত সহকারীকে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনাটি দলীয়ভাবে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির বিষয়টিকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।
গত ২৩ জুন রাজধানীর ধানমন্ডিতে স্থানীয় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিলের পর তর্ক-বিতর্ক থেকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করে জামায়াত। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
তার আগে গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে এক আলোচনায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে টুকুকে তিনি ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পরে বক্তব্যটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়।
এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির কর্নেল একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। একই অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা করেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামীম খান। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এ অভিযোগে দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়।
নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে ১৪ জুন শুনানি শেষে আদালত দুটি মামলাতেই তার স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন গত ৭ জুন সংসদের বাইরে থাকা মাল্টিমিডিয়ার রিপোর্টারদের সঙ্গে আমির হামজা বাজেট নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, বাজেট ২০০ কোটি টাকা হওয়া উচিত। আরেকবার বলেন, বাজেট ছয় হাজার কোটি টাকা হওয়া উচিত। এবারের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার। আমির হামজা পরে জানান, তিনি বলতে চেয়েছিলেন, ছয় লাখ কোটি টাকার বাজেট হওয়া উচিত। মুখ ফসকে ছয় হাজার কোটি বলে ফেলেছেন। আমির হামজার বক্তব্যেও অস্বস্তিতে পড়েছিলেন জামায়াত leadership।
বাজেট অধিবেশনে গত ১৭ জুন সংসদে দেওয়া বক্তৃতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য মু. মিজানুর রহমান এমপিদের সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও জানালার পর্দা চেয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা বাজেটের ওপর কথা বলছি। সম্পূরক বাজেটও পাস হয়েছে। কিন্তু সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে জানালা-দরজার পর্দাগুলো এখনও ঝোলানো হয়নি। আমরা শুনেছিলাম, আমাদের এই ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়া হবে। এই পর্দা, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
এই বক্তব্যের কারণে প্রথমে সামাজিক মাধ্যম, পরে সরকারি দলের সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত। বিএনপির জোট শরিক বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ টিপ্পনী কেটে বলেন, তিনি জামায়াত এমপিকে ওভেন দিতে চান। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ওয়াশিং মেশিন দেওয়া হলে সংসার সাজিয়ে দেওয়া হবে।
গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াত ইসলামীর এমপি আব্দুল মুনতাকিম বাজেট আলোচনায় দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা, আমার দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) সাত ভাই; চারজনই মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন; ১১ জনই মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আমি জুলাইযোদ্ধা।’
পরে জানা যায়, এমপি মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালে। তার বাবা জীবিত। এ বক্তব্যের কারণে সংসদের ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত। সামাজিক মাধ্যমে ট্রল হয়। এমপি পরে ভুল স্বীকার করে বক্তব্য সংশোধনের জন্য স্পিকারকে চিঠি দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় কয়েকজনকে বহিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে এরপরও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় সমর্থন পাওয়ার জন্য তদবির ও প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও দলীয় শৃঙ্খলা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করছেন।
গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে ‘লোহাগাড়ার এমপি আরমান সাহেব, শাহজাহান চৌধুরী এখানে আসলে পায়ে গুলি করব’— এমন একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লক্ষ্য করে এই হামলার পরিকল্পনার অডিও ফাঁস হওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।
ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে সংসদ সদস্যের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে পরিচিত আরমান উদ্দিনের কণ্ঠ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছিল। এতে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ওপর সহিংস হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত থাকায় এলাকা জুড়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অডিওতে কথোপকথন চালানো দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন হলেন আরমান উদ্দিন। অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি হলেন বিএনপির যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মো. তারেকুল হক। তিনি লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের রশিদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
ফাঁস হওয়া অডিওতে তারেকুলকে আরও বলতে শোনা যায়, 'লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করব কেন এসে। এখানে আরমান সাহেবের কথাই চলবে।' জবাবে আরমান উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, 'এমপিকে তো লোহাগাড়ায় না আসতে বলি। তারপরেও লোকজনের জ্বালায় আসে।'
কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারেকুল নামের ওই যুবদল নেতা আরও বলেন, 'বাদশা খালেদের মতো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে থাকব।' জবাবে আরমান উদ্দিন বলেন, 'এসব করলে পুলিশ আসবে, আর্মি আসবে, এমপি আসবে।'
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অডিওতে কথা বলা তারেকুল হক লোহাগাড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাহাড়ের মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্রের ঘনিষ্ঠ হতে পারেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানও প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কেউ যদি মনে করেন যে তাকেই জনপ্রতিনিধি হতে হবে, তাহলে তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। তার বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় আদর্শ ও ব্যক্তিগত পদলাভের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, অনেকেই এখন আদর্শের কারণে নয়, সম্ভাব্য ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার আশায় দলে যোগ দিতে চাইছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহও বেড়েছে। এতে নতুন যোগদানকারীদের উদ্দেশ্য ও দলীয় আদর্শের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
দলের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সরাসরি সদস্য হতে পারেন না। প্রথমে সহযোগী সদস্য, পরে কর্মী এবং নির্ধারিত ধর্মীয় ও সাংগঠনিক শর্ত পূরণ করে রুকন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরেও গোপন ভোটে নির্বাচন হয় এবং কেউ নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন না।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দল সম্প্রসারণের প্রয়োজনে এ প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে শিথিল হয়েছে বলে একাধিক নেতা মন্তব্য করেছেন। তাদের দাবি, জাতীয় নির্বাচনের আগে তুলনামূলক দ্রুত সহযোগী সদস্য গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে অতীতে দলের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ত না থাকা অনেকেই এখন স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থন চাইছেন এবং কোথাও কোথাও অনুমতি ছাড়াই প্রচারণাও চালাচ্ছেন।
নির্বাচনের সময় নতুন সমর্থকদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও এখন আলোচনায়। একটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মী প্রয়োজন হওয়ায় অনেক অদলীয় ব্যক্তিকেও প্রচারণায় যুক্ত করা হয়েছিল। নির্বাচনের পর তাদের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলছেন, যা পুরনো সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘটনা সামনে আসে। সুনামগঞ্জ, নরসিংদী ও চট্টগ্রামের কয়েকটি আসনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারও সদস্যপদ বাতিল, কারও বহিষ্কার এবং কোথাও পুরো জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ময়মনসিংহের একটি আসনে দলটির ইতিহাসে প্রথম বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘটনাও ঘটে। আবার কুমিল্লার একটি আসনে সম্ভাব্য দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে আসনটি জোটের শরিককে ছেড়ে দিতে হয়েছিল।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যক্তিগত পদ-পদবির আকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে, তবে সেটি যদি সাংগঠনিক নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে দল বড় হওয়ার চেয়ে আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তথ্য সূত্র— ঢাকা মেইল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ