প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নামিবিয়া। মরু অধ্যুষিত সাব-সাহারান এই দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত। দেশের সরকারি নাম ‘নামিবিয়া প্রজাতন্ত্র’। এটি রাষ্ট্রপতি শাসিত দেশ। নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোক, যা দেশের বৃহত্তম নগরী। প্রধান ধর্ম খ্রিস্ট। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী। নামিবিয়ায় প্রায় ৭০ হাজার মুসলিম বাস করেন, যারা সেখানে একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত।
নামিবিয়ার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিচয়
নামিবিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১৯৯০ সালের ২১ মার্চ স্বাধীনতা লাভ করে। জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে ১৯৯০ সালের ২৩ এপ্রিল। নামিবিয়ার অবস্থান আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে। উত্তরে অ্যাঙ্গোলা, উত্তর-পূর্বে জাম্বিয়া, পূর্বে বতসোয়ানা, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত। নামিবিয়ার উত্তরে শুষ্ক এলাকা থেকে উপকূল এবং পূর্বে মরুভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। মোট আয়তন আট লাখ ২৫ হাজার ৪১৪ বর্গকিলোমিটার। ২০২৫ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটির মোট জনসংখ্যা ৩০ লাখ ২২ হাজার। জনসংখ্যার ৮৭.৯ শতাংশ মানুষ খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারী এবং ২.৩ শতাংশ মানুষ মুসলিম।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ইসলামের আগমন ও বিকাশ
নামিবিয়ায় ইসলামের ইতিহাস খুব প্রাচীন নয়। ১৮ শতকে দেশটিতে মুসলিম জনগণের আগমন ঘটে বলে জানা যায়। তবে ইসলামের বিকাশ ঘটে বিশ শতকের দিকে। প্রধানত ভারতীয় মুসলিম ব্যবসায়ীরা নামিবিয়ায় গমন করার মাধ্যমে সেখানে ইসলামের বিকাশ সাধিত হয়। ১৮ শতকে মুসলিম ব্যবসায়ীরা নামিবিয়ার বন্দরনগরী লুডেরিটজে বসতি স্থাপন করেন। এই ব্যবসায়ীরা ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তারা ধর্মীয় অনুশাসন পালন এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়ে শিক্ষার তাগিদে লুডেরিটজে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। বর্তমানে দেশটির রাজধানী উইন্ডহোকে কয়েকটি মসজিদ বিদ্যমান।
নামিবিয়ার মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো দেখভাল করার জন্য বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন ও ইসলামিক সেন্টার কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো সংগঠন ‘নামিবিয়া ইসলামিক কাউন্সিল’। দেশটিতে ‘ইসলামিক হালাল অ্যাসোসিয়েশন’ নামেও একটি সংগঠন রয়েছে, যা হালাল পণ্যের সনদ প্রদান করে। নামিবিয়ার মুসলিম শিক্ষার্থীরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য গমন করেন।
‘উইন্ডহোক ইসলামিক সেন্টার’ নামীয় মুসলমানদের আরেকটি সংগঠন আছে, যা রাজধানী উইন্ডহোকে অবস্থিত। এই সংগঠন ইসলাম প্রচারের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ইসলামিক সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ড. আরমাস আবদুল মালিক সিকঙ্গো নামিবিয়ার মুসলমানদের সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, "নামিবিয়ার বহু মানুষ এখনো খ্রিস্ট ধর্মের সঙ্গে ইসলামের পার্থক্য কোথায় তা জানে না।" তাদের অনেকেই মসজিদকে ইসলামের চার্চ মনে করে। যদিও ইবরাহিমি ধর্ম হিসেবে ইসলাম ও খ্রিস্ট ধর্মের মধ্যে কিছুটা মিল থাকলেও দুটিই আলাদা ধর্ম।
নামিবিয়ায় বসবাসরত বেশির ভাগই সুন্নি ধারার মুসলিম। নামিবিয়ার মুসলিমরা মুক্ত মনের অধিকারী। মুসলিমদের বেশির ভাগ নামিবিয়ান নাগরিক নন, বরং তারা অভিবাসী। তাদের মধ্যে রয়েছে ভারতীয়, পাকিস্তানি, আরব ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত নাগরিক। নামিবিয়ার মুসলমানদের বড় অংশ অভিবাসী হলেও সেখানে ধর্মান্তরিত মানুষের সংখ্যা কম নয়। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, নামিবিয়ায় একজন নারী প্রথমে ১৯৪০ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন।
নামিবিয়ায় মসজিদ ও ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
নামিবিয়ায় ২০০৯ সালে ১২টি মসজিদ ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে দেশটিতে ৫০টিরও বেশি মসজিদ বিদ্যমান। তা ছাড়া রয়েছে কয়েকটি বিখ্যাত ইসলামিক সেন্টার। এসব মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার মুসলিমদের মধ্যে ইসলামী শিক্ষা প্রসারের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সাধারণত মসজিদগুলোতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও জ্ঞান দান করা হয়।
নামিবিয়ায় মুসলিমের সংখ্যা বাড়ছে
উইন্ডহোক ইসলামিক সেন্টারের প্রধান ড. আরমাস আবদুল মালিক বলেন, "মুসলিমরা নামিবিয়ায় ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী হলেও সমাজে তাদের প্রভাব ও পরিচিতি বাড়ছে।" উল্লেখ্য যে নামিবিয়ার সাধারণ মানুষ মুক্ত মনের অধিকারী এবং ইসলামের ব্যাপারে তারা উদার ও সহনশীল। ফলে মুসলমানদের সেখানে স্বাধীনভাবে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে কাজ করতে বাধা নেই। বর্তমানে যেভাবে ইসলামের কাজ চলছে, তাতে শিগগিরই মুসলমানরা আরো এগিয়ে যাবে এবং মুসলিম জনসংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। মহান আল্লাহ নামিবিয়ার মুসলমানদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমিন।
লেখক : শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও সিনিয়র ইসলামী ব্যাংকার
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন