প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ নাকচ করে দিয়েছেন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাকে ইরানের ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করেছিল এবং তিনি বর্তমানে গৃহবন্দী আছেন—মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এই চাঞ্চল্যকর দাবি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনের খণ্ডন করে বলেছেন যে, এটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া’।
আহমাদিনেজাদের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে উল্টো অভিযোগ করে বলা হয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন উসকে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এই ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে গৃহবন্দী করে রাখার দাবিও তারা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন। তার কার্যালয়ের মতে, সংবাদপত্রটি নিজেদের অবাস্তব ও কল্পিত প্রতিবেদনের পক্ষে সাফাই গাইতে এই ধরনের অসত্য অভিযোগ সামনে এনেছে।
এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ আহমাদিনেজাদকে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতায় রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল এবং তাকে ইরানের নেতৃত্বের জন্য সম্ভাব্য একজন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেছিল।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এটি ছিল ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে চালানো হামলার পর সরকার পরিবর্তন ঘটানোর বৃহত্তর ইসরায়েলি পরিকল্পনার অংশ। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি আরও দাবি করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদের বাসস্থান ও ভ্রমণ খরচের জন্য অর্থ জুগিয়েছে এবং বুদাপেস্ট সফরসহ বিদেশে বেশ কয়েকবার ইসরায়েলি কর্মকর্তারা তার সঙ্গে গোপন বৈঠকও করেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার চূড়ান্ত পর্যায় ঘটেছিল গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল আহমাদিনেজাদের বাসভবনকে নিশানা করে একটি বিমান হামলা চালায়। এতে তার দেহরক্ষীদের ভবন ও একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি ধ্বংস হয়।
ইরানের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর ঘটনাস্থলে একটি কালো রঙের প্যুজো গাড়ি এসে আহমাদিনেজাদকে দ্রুত সরিয়ে নেয়। অভিযানের বিষয়ে অবগত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুসারে, মোসাদের সদস্যরা গাড়িটি চালিয়ে আহমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরে একটি গোপন নিরাপদ আস্তানায় নিয়ে যান এবং তাকে দেশের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। কিন্তু এই তাড়িঘড়ি উদ্ধার অভিযানে আহমাদিনেজাদ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং ইসরায়েলের পরিকল্পনা নিয়ে তার মধ্যে সংশয় তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার জানাজা ও দাফন গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আহমাদিনেজাদ ওই জানাজায় অংশ নিয়েছেন, যা ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জনসমক্ষে তার প্রথমবার উপস্থিত হওয়া।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আহমাদিনেজাদ মূলত একজন কট্টর ইসরায়েল ও মার্কিনবিরোধী নেতা হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ২০০৫ সালে একটি সম্মেলনে তিনি ইসরায়েলকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার ঐতিহাসিক আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন যা বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন