প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইতালির সরকার, প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বে, স্কুলগুলোর শ্রেণীকক্ষে অভিবাসী শিশুদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার একটি প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে, দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা স্কুলে মেয়ে শিক্ষার্থীদের বোরখা পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনাও করেছেন।
এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো অভিবাসীদের সমাজের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করা এবং সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা প্রতিরোধ করা। সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভিবাসী শিশুদের মা-বাবার জন্য ইতালিয়ান ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন নীতির আওতায়, সন্তানদের স্কুলে না পাঠালে অভিভাবকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে এবং দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, "শ্রেণীকক্ষে বিদেশি শিশুদের অনুপাত মাত্রাতিরিক্ত না হওয়া জরুরি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অভিবাসী শিশুদের সংখ্যা বেশি হলে তাদের জন্য ইতালীয় ভাষা এবং সমাজের মূল্যবোধ শেখা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, ইতালিয়ান শিশুদের স্কুলে অনুপস্থিতির হার ৬ শতাংশ হলেও, অভিবাসী শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ২৬ শতাংশ। আগামী শরতে শিক্ষক, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং রাজনীতিবিদদের নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমানে ইতালির স্কুলগুলোতে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার অ-ইতালীয় শিশু পড়াশোনা করছে, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ শতাংশ। এর মধ্যে এক-পঞ্চমাংশ বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে। তবে, সন্তানদের স্কুলে না পাঠালে অভিভাবকদের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাবটিকে শিক্ষকদের ইউনিয়ন এফএলসি-সিজিআইএল ‘অদূরদর্শী’ আখ্যা দিয়েছে।
ইউনিয়নটি বলেছে, অভিবাসী শিশুদের অভিভাবকদের জন্য ইতালীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা সমাজে একীভূতকরণের পদক্ষেপ নয়। এটি আদেশের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া এক ধরনের শাস্তি, যা বিপরীত পরিণতি ডেকে আনার ঝুঁকি তৈরি করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন