প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তান ভারতীয় নিবন্ধিত বিমান এবং ভারতীয় এয়ারলাইনসের পরিচালিত, মালিকানাধীন বা লিজ নেওয়া বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করেছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৪ নভেম্বর ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। সামরিক বিমানও এ বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) নতুন ‘নোটিশ টু এয়ারমেন’ (নোটাম) জারির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি জানায়। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে পাকিস্তান ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে। ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ভারত ওই হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানায়। পরে পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ভারতও ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে পাকিস্তানি বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।
এরপর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ভারত। এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’ নামে পাল্টা অভিযান শুরু করে এবং ভারতের কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে। ওই সংঘাতের সময় পাকিস্তান তিনটি রাফাল জেটসহ আটটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে।
টানা প্রায় ৮৭ ঘণ্টা সংঘাতের পর ২০২৫ সালের ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে এরপরও ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং একাধিকবার এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে ফ্লাইট পরিচালনার সময় ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে পাকিস্তানের বিমান পরিবহন খাতে এ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সীমিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করেছিল। এসব ঘটনায়ও ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে বিকল্প পথে চলাচলের কারণে অতিরিক্ত পরিচালনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল। তথ্যসূত্র: জিও নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন