প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ, সেমিকন্ডাক্টর, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং হালাল শিল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ক্ল্যাং চাইনিজ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেসিসিআই) কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস ফোরাম: ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ বিষয়গুলো আলোচিত হয়।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) মালয়েশিয়া সফরকারী বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সৌজন্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে এসএমই করপোরেশন মালয়েশিয়ার চেয়ারম্যান ট্যাং চ্যাং খিম উপস্থিত ছিলেন।
ক্ল্যাং চাইনিজ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জেফরি তান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ক্ল্যাংয়ে মালয়েশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সমুদ্রবন্দর রয়েছে এবং উন্নত লজিস্টিক সুবিধা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা মালয়েশিয়া, বিশেষ করে ক্ল্যাংয়ে বিনিয়োগের সুযোগ বিবেচনা করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া বর্তমানে শ্রমঘন শিল্প থেকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে দুদেশের বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। এছাড়াও, সেবা ও উৎপাদনমুখী অন্যান্য খাতও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময়।
তাসকীন আহমেদ মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনৈতিক সেবা, টেলিযোগাযোগ, সেমিকন্ডাক্টর, হালাল খাদ্যপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আশিয়ান অঞ্চলের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতেও মালয়েশিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রতিবছর বাংলাদেশিরা চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশে প্রায় ৪ থেকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেন। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, মালয়েশিয়ার চিকিৎসা খাতের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিশ্বমানের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন।
ডিসিসিআই সভাপতি বাংলাদেশে বিশ্বমানের পর্যটন ও হালাল শিল্পের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চান।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ শুধুমাত্র জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, বিনিয়োগের জন্যও সম্ভাবনাময় গন্তব্য।
তিনি উল্লেখ করেন, দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো কোনো বাণিজ্য চুক্তি না থাকা। এ বিষয়ে দুদেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
হাইকমিশনার আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এ চুক্তি হলে দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের এভিয়েশন, মেডিকেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিংসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে উল্লেখ করে, দেশটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহযোগিতা চান।
হাইকমিশনার সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি এসএমই করপোরেশন মালয়েশিয়ার চেয়ারম্যান ট্যাং চ্যাং খিম বলেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১৩ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, ব্যবসায়িক সহযোগিতা জোরদার এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে ঢাকা চেম্বার ও ক্ল্যাং চেম্বারকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে দক্ষতার সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন এবং দেশটির অর্থনীতিতে, বিশেষ করে অবকাঠামো খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী। তিনি দ্রুত এফটিএ স্বাক্ষর, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মধ্যে হালাল অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং বাংলাদেশের এসএমই উদ্যোক্তাদের রপ্তানি সম্প্রসারণে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বৈশ্বিক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা চেম্বার ও ক্ল্যাং চেম্বারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ ও ক্ল্যাং চেম্বারের সভাপতি জেফরি তান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। এছাড়াও, দুই চেম্বারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ৪০টি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচমেকিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
পরে, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ মালয়েশিয়ার পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতিমন্ত্রী টিয়োং কিং সিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে টিয়োং কিং সিং বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। মুসলিম পর্যটন শিল্পের প্রসারে মালয়েশিয়া গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ থেকে ভবিষ্যতে আরও বেশি পর্যটক মালয়েশিয়ায় যাবেন। একই সঙ্গে, বাংলাদেশে মুসলিম পর্যটন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে দক্ষ জনবল তৈরি ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময়, বাংলাদেশে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উন্নত হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান টিয়োং কিং সিং। তিনি দুদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টার (আইটিসি) মালয়েশিয়া এবং ঢাকা চেম্বারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তাবও দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন