প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় মো. হোসেন নামক এক মালবাহী ট্রাকের চালককে হত্যা সংক্রান্ত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি আগামী ২৬ অক্টোবরের জন্য পুনঃনির্ধারণ করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এই তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন।
তিনি জানান, মামলার দুই আসামী সাজ্জাদ হোসেন এবং নাইমুল হাসান রাসেল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানির কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। এই কারণে আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
এদিন আদালতে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ পলকসহ ৮ জনকে উপস্থিত করা হয়। শুনানি শেষে, লিফট চালু থাকা সত্ত্বেও আদালতের সিঁড়ি দিয়ে ছয়তলায় এজলাসে উঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ জানান পলক।
তিনি বলেন, মাননীয় আদালত, "এটা কী ধরনের সিস্টেম, লিফট চালু দেখলাম তার পরেও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।"
বিচারক পরে তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "এটা তো আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই।" পলক জবাব দেন, "এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অথরিটি। আপনার না হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়।" এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপিকে বলেন, "পিপির মনে রাখা দরকার, তার ওই স্থান থেকে আমার এই স্থানের দূরত্ব বেশি নয়।"
শুনানি শেষে তাকে আদালত থেকে নামানোর সময় সিঁড়ি দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পলক সাংবাদিকদের বলেন, "লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।"
এ সময় পলকের পক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি, তরিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন কারাগারে থাকা ৮ জনকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। মামলায় ৩৪ জন আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে আটক রয়েছে, বাকি ২০ জন পলাতক।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিতে নিহত হন মো. হোসেন। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন এবং সেদিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। নিহতের মা রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক ওরফে তুহিন, রহমান মিয়া ওরফে এ কে এম অহিদুর রহমান, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া ওরফে এম এ সাত্তার, পারভেজ ওরফে গোল্ডেন পারভেজ, সুমন মিয়া ওরফে কাইল্লা সুমন, মিলন হোসেন, সোহেল ওরফে ভূইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান, ফুরকান হোসেন, শাজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি, নাইমুল হাসান রাসেল। আসামিদের মধ্যে পলক, সাদেক, ফুরকান ও শাজাহান কারাগারে আটক রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন