ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পানি ইস্যুতে সিদ্ধান্ত হতে হবে জাতীয় স্বার্থনির্ভর : ড. তিতুমীর


পানি ইস্যুতে সিদ্ধান্ত হতে হবে জাতীয় স্বার্থনির্ভর : ড. তিতুমীর

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : আন্তঃসীমান্ত পানিসহ দেশের পানি–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করাটা কারিগরি বিষয় হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

রোববার ঢাকায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) অনুষ্ঠিত ‘আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন ইস্যু ও পদ্মা ব্যারাজ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিইই) বিভাগ।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

সেমিনারে নীতিনির্ধারক, পানি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তা, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, তিস্তা ইস্যু এবং প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনায় দুটি বাস্তবতা রয়েছেÑবর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট। এ দুই বাস্তবতা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় কারিগরি হতে পারে, কিন্তু এসব সমস্যার সমাধান শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আর সেই সিদ্ধান্তে অবশ্যই জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।

নদীর পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, “একটি নদীকে শুধু তার সংখ্যা দিয়ে বোঝা উচিত নয়; বরং তার ইকোসিস্টেম এবং তার সৃষ্ট বিস্তৃত প্রভাবের আলোকে বুঝতে হবে।”

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

তিনি বলেন, নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়; এর সঙ্গে কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবন-জীবিকা ও একটি অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতি জড়িয়ে আছে। তাই পানি ও নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে শুধু প্রকৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট নয়; এর পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে।

ড. তিতুমীর বলেন, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজকে শুধু একটি প্রকৌশল প্রকল্প হিসেবে দেখলে হবে না। এটি কৃষি, মানুষের জীবন-জীবিকা এবং দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি জাতীয় উন্নয়ন ইস্যু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকারও জরুরি। পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নদী, পরিবেশ, কৃষি, অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সরকারের পরিবেশগত অগ্রাধিকার, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, বর্জ্য থেকে সম্পদ সৃষ্টির উদ্যোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সবুজ বাংলাদেশ গঠনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

তিনি বলেন, দক্ষ পানি ব্যবহার ও আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য আন্তঃসীমান্ত পানি বিরোধ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যৌথ নদী কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন। তিনি নদী অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, জল-অর্থনৈতিক মডেলিং, সুবিধা বণ্টন এবং দক্ষ পানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।

এসআইপিজির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান পানি কূটনীতি ও নীতিবিষয়ক উপস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং ন্যায্য ও সহযোগিতামূলক পানি বণ্টনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পানিকে বাণিজ্যিক পণ্য নয়, যৌথ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব প্রকৌশলী এ এন এইচ আখতার হোসেন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

আলোচকরা প্রকৌশল জ্ঞান, পরিবেশ সুরক্ষা, আইনি প্রস্তুতি, অববাহিকাভিত্তিক পরিকল্পনা ও কূটনীতির সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ পানি নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা সেচ, কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সহায়ক হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সেমিনারের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। তিনি ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সিইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পানি সম্পদ পরিকল্পনায় বড় ধরনের হস্তক্ষেপের আগে নদীর মৌসুমি পরিবর্তন, পলি জমা ও বিশেষজ্ঞ মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে এসআইপিজির পরিচালক অধ্যাপক এস. কে. তৌফিক এম. হক এবং পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাসিকের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় গঠিত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


রাসিকের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় গঠিত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

রাজশাহী, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ গঠিত কমিটির ১৪তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ নগর ভবনের সরিৎ দত্ত গুপ্ত সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

সভায় রাসিক প্রশাসক নাগরিক সেবা আরো ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্টদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিসহ রাসিকের পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সকলকে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে  আহবান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুশাসন বাস্তবায়নে নগরবাসীর কল্যাণে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মাদকমুক্ত যুব সমাজ গড়তে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। আগামীতে প্রশাসক কাপ গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ওয়ার্ড পর্যায়ে খেলার ও ফুটসাল স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।

সভায় রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা এবং রাসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলরগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁও-১ আসন: উপ-নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


ঠাকুরগাঁও-১ আসন: উপ-নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঠাকুরগাঁও-১ আসনে (ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লি উপজেলা) অনুষ্ঠিতব্য উপ-নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রবিবার (৩০ আগষ্ট) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারি সেক্রেটারী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম।

মাওলানা আব্দুল হালিম প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান পদ্ধতি হলো নির্বাচন। যেহেতু জামায়াত দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রাম করছে, তাই আমরা সকল প্রকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" তিনি আরো জানান, ১১ দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনে অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজলুম ছাত্রনেতা দেলাওয়ার হোসেনকে জামায়াতের পক্ষ থেকে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, "যদি জনগণ সঠিকভাবে তাদের ভোট দিতে পারে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আমাদের প্রার্থী জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।"

জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারি পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন। জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হাকিম, দিনাজপুরের সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারীর সাবেক জেলা আমীর আব্দুর রশিদ, পঞ্চগড় জেলা আমীর ইকবাল হোসেন, এবং ঠাকুরগাঁও জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীরও বক্তব্য রাখেন। এসময় বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা, ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায়, নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। উল্লেখ্য, উক্ত জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই এ আসনে নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ান্দোয় যৌথ চ্যাম্পিয়ন সেনাবাহিনী ও বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৮ পি.এম


ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ান্দোয় যৌথ চ্যাম্পিয়ন সেনাবাহিনী ও বিজিবি

ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ান্দোয় সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন

 

পঞ্চম ফেডারেশন কাপ তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতার পুরুষ সিনিয়র বিভাগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই প্রতিযোগিতার মহিলা সিনিয়র বিভাগে সেনাবাহিনী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে, যেখানে বিজিবি রানার্স আপ হিসেবে স্থান করে নেয়।

বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার পল্টনে অবস্থিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জিমনেসিয়ামে ২৮ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। আজ রবিবার অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সভাপতি ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

 

এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং দেশের ১৯টি জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ মোট ২২টি দলের প্রায় ৪৫০ জন পুরুষ ও মহিলা তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণ করেন।

পুরুষ সিনিয়র বিভাগে সেনাবাহিনী ও বিজিবি উভয় দলই ৪টি স্বর্ণ ও ৪টি রৌপ্যসহ মোট ৮টি পদক অর্জন করে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়। এ বিভাগে ৪টি তাম্র পদক নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা রানার্স আপ হিসেবে স্থান করে নেয়।

অন্যদিকে, মহিলা সিনিয়র বিভাগে সেনাবাহিনী ৪টি স্বর্ণ ও ২টি রৌপ্যসহ মোট ৬টি পদক অর্জন করে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং বিজিবি ২টি স্বর্ণ ও ১টি তাম্রসহ মোট ৩টি পদক অর্জন করে রানার্স আপ হয়।

 

অনুষ্ঠানে তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রানা, ফেডারেশনের সদস্য ও টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক শায়রুল কবির খানসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিশাল বাফার গুদাম অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়: ইনচার্জের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বদলির আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জানে আলম লিখন ক্রাইম রিপোর্টার তালাশ বিডি বরিশাল

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


রিশাল বাফার গুদাম অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়: ইনচার্জের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বদলির আবেদন

 

সরকারি সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, পরিবহন ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত, আর্থিক অসঙ্গতি এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বাফার গুদামের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মোঃ শাহে আলম গাজীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা এড়াতে তাঁকে দ্রুত বরিশাল বাফার গুদাম থেকে অন্যত্র বদলির দাবি জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এন্ড প্রেস সোসাইটির বরিশাল বিভাগের পক্ষ থেকে করা ওই আবেদনে বরিশাল বাফার গুদামের সার গ্রহণ, সংরক্ষণ, উত্তোলন, পরিবহন, খালাস ও বিতরণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীন চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন বরিশাল বাফার গুদামের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়ে আসছে।

বিশেষ করে গুদামটির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মোঃ শাহে আলম গাজী দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করার সুযোগে বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।


আবেদনে গুদামে সার গ্রহণ, সংরক্ষণ, উত্তোলন, পরিবহন এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রামের সিইউএফএল থেকে ট্রাকযোগে বরিশাল বাফার গুদামে সার পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কার্যক্রমে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং সেখানে কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।

লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাহাজ থেকে সরাসরি গুদামে সার খালাস না করে এক জাহাজ থেকে অন্য কার্গো অথবা অন্য কোনো স্থানে পণ্য স্থানান্তরের মাধ্যমে সরকারি সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জাহাজের কাগজপত্র, চালান, ওজন রেকর্ড, গুদামের রিসিভ রেকর্ড, পরিবহন নথি এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনকারীদের মতে, সরকারি সার ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে সামান্য অনিয়মের অভিযোগও জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এসব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।


আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগে কোনো ব্যক্তি, ব্যবসায়ী কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনৈতিক যোগসাজশ, বিশেষ সুবিধা প্রদান অথবা আর্থিক স্বার্থের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি নথিপত্র, পরিবহন চুক্তি, বিল-ভাউচার এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।


মোঃ শাহে আলম গাজীর নামে অথবা তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো অস্বাভাবিক সম্পদ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনে তাঁর বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বাড়ি, গাড়ি, জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য যাচাই করে তা তাঁর বৈধ আয় ও চাকরিজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রয়োজনে আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং অন্যান্য আর্থিক নথিপত্র যাচাইয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নিজে অথবা তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঠিকাদারি কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ধরনের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তা প্রচলিত সরকারি চাকরির বিধি এবং বিসিআইসির সংশ্লিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনে গুদামের সার গ্রহণ ও বিতরণ সংক্রান্ত হিসাব, স্টক রেজিস্টার, চালান, গেট পাস, ট্রাক প্রবেশ ও বহির্গমন রেজিস্টার, জাহাজের কাগজপত্র, ওজন স্লিপ, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের ভাষ্য, অভিযোগগুলোর কোনোটি সত্য প্রমাণিত হলে তা সরকারি সম্পদ, রাষ্ট্রীয় অর্থ এবং দেশের জনগণের স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

তাই বিষয়টি শুধু বিভাগীয় বা অভ্যন্তরীণ তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি প্রতিরোধকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

লিখিত আবেদনে প্রধানত ছয়টি দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—
নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মোঃ শাহে আলম গাজীকে দ্রুত বরিশাল বাফার গুদাম থেকে অন্যত্র বদলি করা।
তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা।
তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ের সার গ্রহণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা।
জাহাজভিত্তিক পণ্য খালাস, পরিবহন, ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাই করা।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন, সরকারি চাকরির বিধি এবং বিসিআইসির বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সরকারি অর্থ বা সম্পদের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে তা নির্ধারণ করে আইনানুগভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করা।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে নানা অভিযোগ

লিখিত আবেদনে জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ বিডিতে প্রকাশিত একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১০ আগস্ট ও ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যকেও অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়ক উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনটির অনুলিপি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিসিআইসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান (বিপণন)-এর কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে মোঃ শাহে আলম গাজীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উত্থাপিত বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যথাযথভাবে সংযোজন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%