প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শক্তিশালী গোলশূন্য ড্রয়ের পর ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই ফুটবলারদের দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন।
সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দের অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
ড্র করার কারণে ‘জি’ গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ইরান, যা তাদের রাউন্ড অফ ৩২-এ জায়গা করে নেওয়ার আশা জাগিয়ে রেখেছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-এর মতে, ম্যাচের পর কথা বলার সময় গালেনোই সাম্প্রতিক সময়ে তার দলের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার আগে, আমি গত ছয় মাসের কথায় ফিরে যেতে চাই। ছয় মাস আগে আমরা যুদ্ধাবস্থায় ছিলাম এবং আমাদের লীগ বন্ধ ছিল। অন্য একটি দেশে গিয়ে খেলার জন্য আমাদের ৪০ ঘণ্টা ধরে রাস্তায় থাকতে হয়েছিল।
ইরানি কোচ আরও বলেন, ভিসার জটিলতা, ভ্রমণে বিঘ্ন এবং ম্যাচের জন্য প্রস্তুতির অভাব দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিকে ব্যাহত করেছে। তিনি জানান, তারা সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে প্রবেশ করেছিলেন এবং তিনি চান পুরো বিশ্ব এটি জানুক। এইসব বাধা সত্ত্বেও, কোচ বিশ্বাস করতেন, ইরান বেলজিয়ামকে হারাতে সক্ষম।
গালেনোই বলেন, আমরা বিশ্বের ১০ নম্বর দলের বিরুদ্ধে একটি খুব সুন্দর ম্যাচ খেলেছি। তাদের দুর্দান্ত খেলোয়াড় এবং একজন দুর্দান্ত কোচ ছিল। তারা উভয়েই আমাদের বিপক্ষে জিততে পারতেন এবং আমাদেরও জিতার সুযোগ ছিল।
ইরানের কোচ দাবি করেছেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে টানা দুটি ম্যাচে ড্র করতে পারাটা একটি বোঝা অর্জন। তিনি উল্লেখ করেন, তারা খেলা শুরুর ১৬ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ম্যাচ ভেন্যুতে পৌঁছেছিলেন, যা ইতিহাসে লেখা থাকবে। ফুটবলাররা তাদের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
গালেনোই বেইরানভান্ডের বিশেষ প্রশংসা করেন, যিনি সাতটি সেভ করে ‘সুপিরিয়র প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি বলেছেন, বেইরানভান্দ ইরানের ইতিহাসের অন্যতম সম্মানিত গোল রক্ষক এবং তিনি খুবই বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ। আজ ছিল তার অন্যতম সেরা একটি দিন।
গালেনোই বলেন, এখনই আমাদের উড়াল দিতে হবে, যা অত্যন্ত ক্লান্তিকর। তারা আমাদের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও দিচ্ছে না। মিশরের বিপক্ষে আমাদের একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। বেলজিয়ামের মতো দুর্দান্ত খেলোয়াড় তাদের দলে রয়েছে। এখন আমাদের অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের কোনো দলই ১৬ ঘণ্টায় দুটি সফর করে না। আমাদের জন্য পরিস্থিতি খুবই কঠিন। আমাদের খেলোয়াড়রা সত্যিই ত্যাগ স্বীকার করে এবং মনপ্রাণ দিয়ে মাঠে নামছেন। ইতিহাস তাদের মহান হিসেবে মনে রাখবে।
ম্যাচ শেষে, ইরানের ফুটবলাররা সোফি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি আবেগঘন হাতে লেখা বার্তা রেখে যান। সেখানে তারা টুর্নামেন্টজুড়ে সমর্থনের জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন। আগামী শনিবার নিজেদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ইরান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন