প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে, তিনি পরে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জানিয়েছেন যে, নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তিনি শুধুমাত্র উল্লেখ করেছিলেন এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি।
বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যদি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকে, তাহলে সেটির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা উচিত কি না। তিনি আরও লেখেন, আমেরিকার মতোই এটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও ‘উত্তপ্ত’ হবে! এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক দূরে অবস্থিত হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ ট্রাম্প কীভাবে নেবেন, তা স্পষ্ট নয়। এর আগে কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে হরমুজের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
লেক অন্টারিওর ক্ষেত্রে ট্রাম্প মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সরকারি ভৌগোলিক নামের তথ্যভান্ডারে নতুন নাম যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও কানাডা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছিল, গুগল ও অ্যাপল তাদের ম্যাপ অ্যাপ্লিকেশনে ‘লেক আমেরিকা’ নামটি যুক্ত করেছে। এর আগে, মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার ঘোষণাও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। মেক্সিকোসহ কয়েকটি দেশ ওই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে এবং তা মেনে নেয়নি।
তবে, হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি ট্রাম্প বাস্তবায়ন করতে চান কি না, তা নিয়ে শুরু থেকেই অনিশ্চয়তা ছিল। বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “না, না... এটা শুধু বলে ছিলাম।”
এদিকে, ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন আর ইরানের হাতে নেই। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। তবে, সংঘাত শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তা আরও কমেছে বলে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর এ অঞ্চলে আবারও সামরিক হামলা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে যাওয়া পাইপলাইনসহ বিকল্প পথের হিসাব ধরলে, অঞ্চলটির মোট তেল রপ্তানি যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখন বেশি।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বুধবার সিএনবিসিকে জানিয়েছেন, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১৭ মিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রণালিটি দিয়ে তেল পরিবহনের সর্বোচ্চ পরিমাণ। সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত।
তথ্য সূত্র -
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন