বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০১ এম
বরিশালে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের কারণে স্ত্রী নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে স্বামী নুরুজ্জামান হাওলাদারকে (৫৫) পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত স্ত্রী ঘরের বাইরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে গেছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে মহানগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি কলোনির আহসান হাবিবের ভাড়া বাড়ি থেকে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত নুরুজ্জামান হাওলাদার মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। তিনি বরিশাল জজ আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী (মুহুরি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং কাজের কারণে স্ত্রীর সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে নুরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের মধ্যে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তীব্র বিরোধ চলছিল। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তাদের কলহ চরম আকার ধারণ করলে স্ত্রী নাসিমা বেগম স্বামী নুরুজ্জামানকে ভোঁতা অস্ত্র বা শক্ত কিছু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে প্রতিবেশীরা যাতে তাৎক্ষণিক কিছু টের না পায়, সে কারণে ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে রেখে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নুরুজ্জামানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেপ্তারসহ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক তদন্ত দল মাঠে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, নির্বাচিত বিএনপি সরকার গত সাত মাসে দেশের মানুষের জন্য অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ পরবর্তী পুঞ্জীভূত সমস্যা এক রাতের মধ্যে মূলোৎপাটন করা সম্ভব নয়। তবে বাস্তবতা হলো, এই সাত মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। কোথাও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বিরোধী দলের ভিন্ন মত, পথ, আদর্শ বা রাজনৈতিক মূল্যবোধকে রাষ্ট্রীয় মদদে হরণ করা হয়নি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি, যা আমাদের জানা মতে।
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় মদদে’ কথাটি স্পষ্ট করে বলার কারণ হলো—অতীতে একটি নির্দিষ্ট সরকারি কার্যালয় থেকে বিরোধী মতের মানুষের তালিকা করা হতো এবং নির্দেশ দিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হতো।
বর্তমান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোর আওতায় বিচ্ছিন্নভাবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা প্রশাসনিক ভুলভ্রান্তি ঘটলে তা সঙ্গে সঙ্গে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। মাহদী আমিন বলেন, অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং আইনের অনুশাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, সরকার এই গণতান্ত্রিক ধারাকে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি ঘটলে, অতীতের মতো তা ধামাচাপা না দিয়ে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তদন্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে দমন-নিপীড়নের সংস্কৃতি ভেঙে এখন প্রান্তিক মানুষের অভিযোগকে মূল্যায়ন করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটিই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে এই স্বচ্ছতা আরও সুদৃঢ় হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, এই ঐতিহাসিক আন্দোলন নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা জনগোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পোশাক শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, এমন একটি জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছিল, যেখানে সবাই ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছিল।
বিভিন্ন আইনের ক্ষেত্রে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়ে মাহদী আমিন জানান, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একশ’র বেশি অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। অতীতে এতো দ্রুত সময়ে এতো বিপুল সংখ্যক আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পাস করার নজির বিরল। তবে নতুন যে কয়েকটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলোতে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়েছে। আইনের খসড়াগুলো অনেক আগেই উন্মুক্ত করা হয়েছিল। আইন প্রণয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া, মনে রাখতে হবে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনের পর যখন একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করে, তখন আইন প্রণয়নকারী সংসদ সদস্যরা সর্বস্তরের মানুষের মতামত ধারণ করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, হয়তো প্রথমবারেই শতভাগ নিখুঁত পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে বিভিন্ন পর্যায়ে অংশীজনদের মতামত নিয়ে যেখানে বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে, সেখানে সরকার প্রয়োজনীয় সংশোধনীও নিয়ে আসছে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনা রয়েছে—একটি আইনকে কীভাবে জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত করা যায়, সেজন্য যারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে পারবেন তাদের সঙ্গে নিবিড় পরামর্শ চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আইনের অক্ষরের চেয়ে সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। ফ্যাসিবাদের সময়ে সংবিধানের নানা ধারার অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। কাজেই আইনের ভাষা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার মানবিক ব্যাখ্যা এবং প্রায়োগিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আদর্শ ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশে এখন সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা বিরাজ করছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অশালীন বা অশ্রাব্য আচরণ করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পরমসহিষ্ণুতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে এক ও অবিচল থাকতে হবে।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি সংকটে এবং গণতান্ত্রিক পালাবদলে বিএনপির ভূমিকা অপরিসীম। বাকশাল, সামরিক শাসন কিংবা দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের পর প্রতিবারই বিএনপির হাত ধরে এ দেশে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাকশালের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটে এবং দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ পুনরায় গণতান্ত্রিক কক্ষপথে ফিরে এসেছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুষম জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এক্ষেত্রে স্বাধীনতা, অখণ্ড সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আজকের এই মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। ফ্যাসিবাদী আমলে কেবল বিএনপিরই ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম ও শহীদ হয়েছেন। গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই এই কঠিন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
তিনি বলেন, কেবল রাজনীতিকরা নন; দেশের সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, বেসরকারি খাত এবং বিশেষ করে তরুণ ও নারী সমাজকে মূল চালিকাশক্তি করে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তারুণ্যের অপার সম্ভাবনা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ঋণ শোধ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে কাঙ্ক্ষিত মর্যাদার আসনে পৌঁছে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের পরিচালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী, চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা প্রমুখ।
এছাড়া শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের পাশে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে এই বিস্ফোরণটি ঘটে। তবে, এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ভবনের (শেখ রাসেল টাওয়ার) এক বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে জানান, রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা হঠাৎ করে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মূলত শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তাকে এই ধন্যবাদ জানানো হয়।
রাজধানীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ইসলামী বইমেলায় ‘শাপলা কর্নার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মামুনুল হক উল্লেখ করেন, “সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বসে প্রথমবারের মতো ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে সম্মাননা দিয়েছেন। এই অনন্য উদ্যোগের অকপট স্বীকৃতি ও কৃতিত্ব দিয়ে উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।”
শাপলা চত্বরের আত্মত্যাগকে জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেমন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ভিত থেকে এসেছিল, তেমনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মূল প্রেরণাও প্রোথিত ছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের রক্তে রাঙা আত্মত্যাগের মাঝে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মতো শাপলার শহীদরাও যেন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পান, সেই দাবি সংসদে ও রাজপথে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মাওলানা মামুনুল হক জানান, শাপলা স্মৃতি সংসদ দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শহীদদের একটি প্রামাণ্য তালিকা তৈরি করে ‘শহীদনামা’ শীর্ষক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শাপলা হত্যাকাণ্ডের মামলা ও শহীদদের পরিচয় শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই তালিকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অনুষ্ঠানে তিনি শাপলা স্মৃতি সংসদের সদস্যসচিব মাওলানা কামালউদ্দীনসহ সংশ্লিষ্ট সদস্য এবং মেলায় স্টল বরাদ্দ দেওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মেলা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। মামুনুল হক শাপলার চেতনা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ায় নাশকতার মামলায় জামিন নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন যে, হামলায় ৫-৬ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। পরে জানা গেছে, বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ভাঙচুর ও তার পাটের গোডাউনে আগুন দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলকোলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রুহুলের নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুরটি সংঘটিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার বিএনপির সমর্থকরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর নলকোলা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা মুড়ি-চানাচুর খাচ্ছিলেন। এ সময় রুহুলের নেতৃত্বে প্রায় ৫০-৬০ জন ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা কার্যালয়ে ভাঙচুর করে এবং বিএনপির কয়েকজন সমর্থককে মারধর করে। তাদের দাবি, এতে ৫-৬ জন আহত হন।
তারা আরও জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা মিছিল করায় ইবি থানায় একটি নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলসহ বেশ কয়েকজন আসামি হন। মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফেরার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলার পর বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলের বাড়িতে ভাঙচুর করেন। এ সময় তার পাটের গোডাউনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে ইবি থানা পুলিশ উপস্থিত রয়েছে। তিনি বলেন, "আমিও ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ