প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘ওষুধ এনে হাসপতালে এসে দেখতে পাই আমার মেয়েকে অ্যাম্বুল্যান্সে উঠানো হচ্ছে। দেখি শ্রাবণীর মুখ কাপড়ে ঢাকা, কী হয়েছে কিছুই বুঝতে পারিনি।’ – এভাবেই বলছিলেন রংপুরের পীরগঞ্জের মাতৃসদন ক্লিনিকে নবজাতকসহ মারা যাওয়া প্রসূতির বাবা মতিহার রহমান। তিনি দাবি করেছেন, চিকিৎসা অবহেলার কারণে তার মেয়ের মৃত্যু ঘটেছে।
নিহত প্রসূতির নাম শ্রাবণী বেগম (১৯)। তিনি গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ইসলামপুর ছাইগাড়ী গ্রামের রোহানের স্ত্রী। তার বাবার নাম মতিয়ার রহমান। স্বজনরা জানিয়েছেন, শ্রাবণী তার বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা বিস্তারিত জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ৮টায় শ্রাবনী তার মা-খালাকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য নগর মাতৃসদনে যান। সেখানে প্রেসার চেক-আপের পর সিজারের জন্য ফি পরিশোধ করতে বলা হয়।
টাকা পরিশোধের পর প্রসূতি শ্রাবনীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। থিয়েটারে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা অর্থাৎ রাত ১১টা পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. আহসানুল আবেদীন মামুন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন উল্লেখ করে তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে শ্রাবনীকে এম্বুলেন্সে উঠানো হয়। রংপুর মেডিক্যালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। যদিও স্বজনদের দাবি, অপারেশন থিয়েটারের ভেতরেই প্রসূতি ও তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল।
শ্রাবণীর বাবা মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, মাতৃসদন ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে আমাদের ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করানোর পর অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন। তবে মাতৃসদন ক্লিনিকে থাকতেই তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচার দাবি করেছেন শ্রাবণীর স্বজনরা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে নগর মাতৃসদনের ক্লিনিক ম্যানেজার ডা. মো. আহ্সানুল আবেদীন মামুন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেছেন, ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধের একাধিকবার মৌখিক নির্দেশ দেওয়ার পরও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’
পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাতৃসদন কেন্দ্রে পৌরসভার তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান বন্ধ রয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাকে (ইউএনও) জানান রোগী একলামেশিয়া রোগে আক্রান্ত ছিল। প্রেসার বেশি হওয়ার কারণে খিঁচুনি উঠে বলে জেনেছি। সিভিল সার্জন তদন্ত করলেই প্রকৃত কারণ উৎঘাটন হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন