প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক এবং সৃজনশীলভাবে গড়ে তুলতে প্রাথমিকের কারিকুলামে ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই শিশুরা শুধু বই পড়ে বিজ্ঞান শিখবে না, বরং হাতে-কলমে কাজ করে, খেলতে খেলতেই বিজ্ঞান শিখবে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রাথমিকের কারিকুলামে সায়েন্স টয় যুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ রবিবার (৯ আগস্ট) ঢাকার বনানীতে অবস্থিত হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বিজ্ঞান, গণিত, ডিজাইন এবং সৃজনশীলতার ওপর যদি আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় তবে শিশুদের শেখার প্রক্রিয়া অনেক আনন্দময় এবং বাস্তবভিত্তিক হয়ে উঠবে। এ কারণেই কারিকুলামের ভেতরে ‘সায়েন্স টয়’ এবং হাতে-কলমে শেখার বিভিন্ন উপকরণ যুক্ত করা হবে।
তাছাড়া, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। সেখানে বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আকার, আকৃতি, গুণ, ভাগ, যোগ-বিয়োগসহ গণিতের মৌলিক ধারণাগুলি শিখতে পারবে।
প্রতিমন্ত্রী ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের ঘাটতি দূর করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, প্রতিটি শিশুর মৌলিক পড়া, লেখা এবং গণিতের দক্ষতাকে নিশ্চিত করা। কোনো শিক্ষার্থী যদি উচ্চতর শ্রেণিতে উঠলেও তার ভিত্তিগত শেখার ঘাটতি থেকে যায়, তাহলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে তা একটি বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করবে।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনার জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৬ আগস্ট, প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণের কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব ত্রুটি এবং সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলোর সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধুমাত্র কতজনের কাছে পৌঁছেছে তার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং বাস্তবায়নের সময় কী কী সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং সেগুলোর কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে, সেগুলোর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন প্রকল্পকে শুধুমাত্র দর্শননির্ভর নয়, বরং অপারেশনাল এবং বাস্তবভিত্তিক হওয়া উচিত। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাদর্শন থাকবে, কিন্তু সেই দর্শন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি প্রকল্পের সুস্পষ্ট কার্যক্রম, বাস্তবায়ন কাঠামো, পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দর্শন হলো দেশের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু প্রকল্প যখন মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হবে, তখন সেটি সম্পূর্ণ অপারেশনাল হতে হবে। ধাপে ধাপে কিভাবে কাজটি হচ্ছে, কিভাবে মনিটরিং হচ্ছে, এসব বিষয়ে আমরা আরো শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি করছি।’
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহার, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন