প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্ণীপুর সদর উপজেলার বিজয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে কাভারভ্যানের চাপায় মো. নিহাদ (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এটি সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনা, যার ফলে পরিবার, সহপাঠী ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত নিহাদ সদর উপজেলার ১ নম্বর উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের খলিল মোহাম্মদের বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ আজাদের ছেলে, এবং তিনি বিজয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
এদিকে, একমাত্র সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে নিহাদের পরিবার। এলাকাবাসীদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা আবশ্যক। তারা বলেছেন, যদি এ পদক্ষেপগুলি দ্রুত না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতেও এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই যেন আর কোনো পরিবার এভাবে সন্তান হারানোর যন্ত্রণায় ভুগতে না পারে, সে জন্য তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো বিকেলে স্কুল মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা শেষে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিল নিহাদ। ঠিক স্কুলের সামনেই রামগঞ্জ থেকে আসা একটি কাভারভ্যান তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। মুহূর্তেই আনন্দমুখর বিকেলটি শোকের মাতমে রূপ নেয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা কাভারভ্যানটি আটক করতে সক্ষম হলেও চালক পালিয়ে যাওয়ার মধ্যে থাকে। দুর্ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মন্তব্য করেন যে বিদ্যালয়ের সামনে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি তৈরি করছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী রাত ১০টার পর ড্রাম ট্রাক ও কাভারভ্যান চলাচলের অনুমতি থাকলেও দিনের বেলাতেও এসব ভারী যানবাহন দ্রুতগতিতে চলছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে গতিনিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "স্কুল ছুটির সময় প্রতিদিনই এখানে ছোট-বড় শিক্ষার্থীরা সড়ক পার হয়। অথচ ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। আজ একটি নিষ্পাপ প্রাণ চলে গেল। আমরা চাই, স্কুলের সামনে স্পিড ব্রেকার, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং ভারী যান চলাচলে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক।"
লক্ষ্ণীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানালেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত কাভারভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন