প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র পার্লামেন্ট অভিযানকে ঘিরে চরম পুলিশি বর্বরতার অভিযোগে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গন উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ সংক্রান্ত ঘটনায় গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ চলাকালীন এক নারী আন্দোলনকারীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগে দিল্লি পুলিশের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (এডিসিপি) সন্দীপ লাম্বাকে প্রতিবাদী যন্তর মন্তর আন্দোলন স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাটি ঘটেছে পরীক্ষা-সংক্রান্ত নানা অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘চলো সংসদ’ অভিযানের সময়।
এদিকে, এই পুলিশি সহিংসতার বিষয়টি গড়িয়েছে দিল্লি হাইকোর্টের পর্যন্ত। বুধবার এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে মামলাকারীদের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন উচ্চ আদালতে এডিসিপি সন্দীপ লাম্বার বিরুদ্ধে সরব হন। প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চকে তিনি জানান, শান্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীকে প্রকাশ্য দিবালোকে চড় মারেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, ভিড় হটাতে যে নিয়ম মানা দরকার, তা যেমন প্রথমে ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করা — তা না করে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে। আদালত এই পুলিশি পদক্ষেপ সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও মানবাধিকার কমিশনকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, সাবেক তৃণমূল সংসদ সদস্য সাকেত গোখলেও উক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, সিজেপি-র উত্থান নিয়ে দিল্লিজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। গত মে মাসে অভিজিৎ দীপ নামে একজন তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্যাটায়ারিকাল সংগঠন হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি গঠন করেন, যা দেখতে দেখতে ভারতজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
নিটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এখন দেশব্যাপী প্রভাব ফেলেছে। পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও যন্তর মন্তরে এই দাবির সমর্থনে অনশন পালন করেছেন। যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশের এই হামলার ঘটনা প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন