প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। ভিন্ন সংস্থার অধীনে ভিন্ন অধিনায়কের যুগে প্রবেশ করছে দলটি। নিগার সুলতানার স্থানে টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়েছে নাহিদা আক্তারকে। সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সোবহানা মোস্তারি।
রোববার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করে। নাহিদা ও সোবহানাকে আপাতত এক বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে নিগার সুলতানা থাকছেন।
নাহিদা বাংলাদেশের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। তিনি সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, নিগার সুলতানা ও রোমানা আহমেদের উত্তরসূরি। ২৬ বছর বয়সী বাঁহাতি এই স্পিনার নতুন দায়িত্বে আসছেন।
গত মাসে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতার পর নিগার সুলতানা জানান, জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের পর তিনি আর টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব করবেন না। এরপর বাংলাদেশ এশিয়ান গেমসে প্রথমবার কোনো পদক ছাড়াই আসর শেষ করে।
বিসিবি চার সপ্তাহের মধ্যে নতুন অধিনায়ক ঠিক করে। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে কোনো চমক ছিল না। ২০২৩ সাল থেকেই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে নিগারের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নাহিদা। তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সোবহানা, যিনি সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে ওয়ানডেতে রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি করেছেন।
বাংলাদেশ আগামী মাসে থাইল্যান্ডে আইসিসি উইমেন'স ইমার্জিং নেশন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণ করবে। 'বি' গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান। ১২ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নাহিদা ও সোবহানার নেতৃত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার আগেই সামাজিক মাধ্যমে নিগার সুলতানা নাহিদাকে শুভেচ্ছা জানান। দলের প্রতি তার নিবেদনও প্রকাশ করেন।
“টি-টোয়েন্টি দলের নতুন অধিনায়ক নাহিদাকে আন্তরিক অভিনন্দন। নতুন এই দায়িত্বে তার জন্য রইল অনেক শুভকামনা। আমি বিশ্বাস করি, সে নিজের সামর্থ্য ও নেতৃত্ব দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের ভূমিকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু আমাদের লাল-সবুজ পতাকার প্রতি আবেগ একই আছে, আমাদের লক্ষ্যও একই—বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
একজন সতীর্থ হিসেবে নাহিদার পাশে আছি, থাকব। দলের সাফল্যের জন্য আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, তা করতে আমি সবসময় প্রস্তুত। আমরা একসঙ্গে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছি। সামনে বাংলাদেশের জার্সিতে একসঙ্গে আরও অনেক সাফল্যের গল্প লিখতে চাই।”
নাহিদা বাংলাদেশের সাদা বলের দুই সংস্করণে ধারাবাহিক পারফর্মারদের একজন। প্রায় ১১ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ১১৩ টি-টোয়েন্টিতে ১৩২ উইকেট শিকার করেছেন। তিনি বাংলাদেশের একমাত্র বোলার, যিনি একশ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে উইকেটশিকারির তালিকায় নাহিদার নাম ১১ নম্বরে রয়েছে। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তিনি পাঁচ নম্বরে আছেন।
সোবহানার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার প্রায় সাত বছরের। তবে চলতি বছর তার ফর্ম প্রথম ছয় বছরের তুলনায় আশাব্যঞ্জক। ২০২৬ সালে তিনি ২৫ ম্যাচে ১০৮.৫ স্ট্রাইক রেট ও ২৬.০৯ গড়ে ৫৭৪ রান সংগ্রহ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন