প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফাইনালে লাল কার্ড প্রাপ্ত মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ বলেছেন, শেষ পর্যন্ত শিরোপা হাতছাড়া হওয়া সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টায় নিজেকে উপস্থাপন করেছে। এবারের আসরে খেলোয়াড়রা নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে।
রোববারের ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে পরাজিত হওয়ার ম্যাচে, নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির ওপর কঠোর ট্যাকল করায় ২৫ বছর বয়সী এই চেলসি মিডফিল্ডার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে যান।
ফার্নান্দেজের এই বহিষ্কার ফাইনালে আর্জেন্টিনার মানসিক দৃঢ়তাকে অনেকটা নড়বড়ে করে দেয়। ম্যাচ শেষে, স্পেনের খেলোয়াড়রা শিরোপা উদযাপন করার সময় আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস তাদের কয়েকজনের ওপর চড়াও হন, যা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে সমালোচনার ঝড় চলছে। ম্যাচ-পরবর্তী এই অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে সম্ভাব্য শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্তও শুরু করেছে ফিফা।
এছাড়া, যখন স্পেনের খেলোয়াড়রা পদক ও ট্রফি গ্রহণ করছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা তাদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে হারানোর পর, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ‘মালভিনাস বা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করে বিতর্কের জন্ম দেন।
ফার্নান্দেজ ইনস্টাগ্রামে একটি বার্তায় বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সের পক্ষে কথা বলেন। তবে, তিনি নিজে লাল কার্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। তিনি লেখেন, "সময় যত যায়, ততই বোঝা যায় যে শুধু একটি ফলাফলের চেয়েও অনেক বড় কিছু রয়েছে। বহু বছর ধরে এই দলটি সম্ভাব্য সেরা উপায়ে জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছে। এই দল শিখিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বীতা মানে শুধু জয় নয়, বরং জার্সির জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া এবং কখনোই হাল না ছাড়া।"
ফার্নান্দেজ ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সদস্যও ছিলেন, যারা ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল।
কিন্তু টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাবার পিছনে তার লাল কার্ডের ঘটনা বারবার সকলের সামনে চলে আসছে। ফার্নান্দেজের বহিষ্কারের পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন শিরোপা জয় করে। আর্জেন্টিনার অতিরিক্ত রক্ষা কৌশলের কারণে ফাইনালটি ছিল বেশ নিষ্প্রাণ।
ফার্নান্দেজ বলেন, "এমন একটি দলের অংশ হতে পারা আমার জন্য গর্বের, যে দল সবসময় নিজেদের সেরাটা দিয়েছে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছে এবং গর্ব, বিনয় ও অঙ্গীকারের সঙ্গে এই জার্সির মর্যাদা রক্ষা করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "আর্জেন্টিনার সব সমর্থককে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রতিটি ম্যাচে আমাদের পাশে থাকার জন্য, ভালোবাসার জন্য, নিঃশর্ত সমর্থনের জন্য এবং বিশ্বের যেখানেই খেলি না কেন আমাদের ঘরের মতো অনুভব করানোর জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। নিজ দেশের জার্সি পরা আমার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ সম্মান, আর যখনই এই জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ পাব, প্রতিবারই নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেব।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন