প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলার ফলে ৬০ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত হয়েছেন। দেশটির অর্থোডক্স চার্চের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ওই অঞ্চলে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে মারাত্মক সহিংসতা। গির্জার একজন কর্মকর্তা এটিকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও হামলা থামাতে সক্ষম হয়নি।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর ও ২৪ অক্টোবর দুই দফার হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। হামলার ফলে প্রায় ২০টি বাড়ি পুড়ে গেছে। জীবন বাঁচাতে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ইতিমধ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
হামলার শিকার একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ৭৫ বছর বয়সী বাবাকে হারানোর ঘটনায় হামলাটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। হামলাকারীরা তাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেছিল এবং তারা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলেন।
এ নৃশংসতার জন্য একজন স্থানীয় কর্মকর্তা ‘অ্যালায়েন্স ফর সারভাইভাল’ নামের একটি নবগঠিত বিদ্রোহী জোটকে দায়ী করেছেন, যা ওরোমো লিবারেশন আর্মি (ওএলএ) এর সাথে যুক্ত। তবে ওএলএ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স তেওয়াহেদো চার্চের পবিত্র সিনডের প্রকাশিত বিবৃতিতে নির্দিষ্টভাবে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি, কিন্তু সরকার অতীতে এসব হামলার জন্য ওএলএ কে দায়ী করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ পূর্বে মন্তব্য করেছিলেন যে, বেসামরিক নাগরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পনা চলছে।
অর্থোডক্স চার্চ সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, খ্রিস্টানদের ওপর হামলা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ণ করছে। চার্চের পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, বেসরকারি সংস্থা ‘ইথিওপিয়ান হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল’-এর ২০২৬ সালের জুলাইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত চার বছরে ওই এলাকায় বিভিন্ন হামলায় ৪৫৮ জন নিহত হয়েছেন। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিশেষ করে অর্থোডক্স চার্চের অনুসারীদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানোয় এগুলোকে ধর্মীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে এই অঞ্চলে মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই চলমান সহিংসতাকে জাতিগত ও ধর্মীয়—উভয় প্রকৃতির বলেই বর্ণনা করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বারবার ঘটে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ইথিওপিয়ার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন