প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমেরিকান দেশীয় সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী, গীতিকার, সমাজসেবী, ব্যবসায়ী ও অভিনেত্রী ডলি পার্টন আর নেই।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে ৮০ বছর বয়সে তার মৃত্যু ঘটে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। খবর
ডলি পার্টন সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও সমাজসেবায়ও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন। জোলিন, আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ ও কোট অব মেনি কালার্সের মতো জনপ্রিয় গানগুলো তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়। তার লেখা আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ গানটি পরে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে আরও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
ডলির মৃত্যুর খবর তার ভাতিজা ব্রায়ান সিভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রিয়জনদের ঘিরে শান্তিপূর্ণভাবে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১২ ভাইবোনের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ডলি পার্টন। দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়ে ওঠার পরও ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে গান লেখা শুরু করেন তিনি। ১০ বছর বয়সে স্থানীয় বেতার অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ পান এবং ১৩ বছর বয়সে প্রথমবার ন্যাশভিলের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ওলে অপ্রিতে গান করেন।
স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর ডলি ন্যাশভিলে গিয়ে সংগীতজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে গায়ক পোর্টার ওয়াগনারের সঙ্গে জুটি বেঁধে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তবে তার স্বপ্ন ছিল নিজের একক ক্যারিয়ার গড়া। ওয়াগনারকে বিদায় জানানোর সময়েই তিনি আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ গানটি লিখেছিলেন।
১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে একের পর এক জনপ্রিয় গান দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতজগতের শীর্ষ তারকায় পরিণত হন। সংগীতের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও সাফল্য অর্জন করেন। নাইন টু ফাইভ ও স্টিল ম্যাগনোলিয়াসের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেন।
ডলি পার্টনের সাফল্যের গল্প গান ও অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সমাজসেবায়ও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। ১৯৯৫ সালে শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ প্রতিষ্ঠা করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটির বেশি বই বিতরণ করা হয়েছে।
নিজের জন্মভূমির কাছেই তিনি ডলিউড বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলেন। এটি পরবর্তীতে ওই এলাকার অন্যতম বড় কর্মসংস্থান ও পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। করোনার টিকা গবেষণায়ও তিনি বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা প্রদান করেছিলেন।
ডলি ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। তার ঝলমলে পোশাক, স্বতন্ত্র সাজ, প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব এবং রসবোধের কারণে তিনি কয়েক প্রজন্মের মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ১১টি গ্র্যামি পুরস্কারসহ সংগীত ও শিল্পকলায় বহু সম্মাননা লাভ করেন।
ডলির স্বামী কার্ল ডিন ২০২৫ সালের মার্চে মারা যান। প্রায় ছয় দশকের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর মৃত্যু তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। মৃত্যুর আগে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে নানা সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
ডলির মৃত্যুতে আমেরিকান সংগীতজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার গান, অভিনয় ও সমাজসেবার দীর্ঘ উত্তরাধিকার তাকে শুধু দেশীয় সংগীতের শিল্পী নয়, বরং বিশ্বসংস্কৃতির এক অনন্য আইকনে পরিণত করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন