প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্যাপক সংস্কার এবং স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি অতীতে সংঘটিত বৃহৎ আকারের বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর ব্যবস্থার ফলে দেশের পুঁজিবাজারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্য মো. কামরুল হাসানের (ময়মনসিংহ-৬) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দিনের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পুনর্গঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইতোমধ্যে দৃশ্যমান ফল প্রদর্শন করতে শুরু করেছে। গত দুই মাস ধরে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। বর্তমানে শেয়ারবাজার উর্ধ্বমুখী এবং সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই মাস সময়ের মধ্যে বাজারের পারফরম্যান্স আরও শক্তিশালী হয়েছে। এটি পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা ফিরে আসারই প্রতিবিম্ব।’
সরকার একটি নতুন বিএসইসি গঠন করেছে, যেখানে একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনার নিযুক্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে আরও একজন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং বর্তমান কমিশনের সদস্যদের কেউ রাজনৈতিক বিবেচনায় নিযুক্ত হননি।
তিনি আরও জানান, ‘সম্মানিত সদস্যদের অবগত করতে চাই, কাউকে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের কাউকে জানতাম না। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এতটা স্বচ্ছ ছিল যে, আমি তাদের সঙ্গে পরিচিত ছিলাম না।’
নতুন কমিশনের সদস্যদের যোগ্যতা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সবাই অভিজ্ঞ পেশাজীবী এবং দেশি-বিদেশি পুঁজিবাজার সম্পর্কে ব্যাপক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তারা সকলেই পেশাদার এবং পুঁজিবাজার বিষয়ে শক্তিশালী দক্ষতা রাখেন। তাদের সততা ও নিষ্ঠার বিষয়ে প্রশ্ন নেই।’
অর্থমন্ত্রী বিগত সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল সে প্রসঙ্গেও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, অনিয়ম ও বাজার কারসাজির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকারের দ্বারা গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে বাজার কারসাজি, প্রতারণা এবং বিভিন্ন অনিয়মের জন্য বিএসইসি কর্তৃক আর্থিক জরিমানা আরোপের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বেক্সিমকো) শেয়ার লেনদেনে কারসাজির ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। বাজার কারসাজি, দুর্নীতি এবং অন্যান্য আর্থিক অনিয়মে জড়িতদের চিহ্নিত করার জন্য যে তদন্ত ও অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হবে। শুধু স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা নয়, তালিকাভুক্ত কোম্পানিরাও আবার বাজারে আস্থা ফিরে পাচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক তহবিল ব্যবস্থাপকরা বাংলাদেশের প্রতি পুনরায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, হংকং, লন্ডন এবং নিউইয়র্কের মতো বিশ্বের প্রধান আর্থিক কেন্দ্রগুলোর বিনিয়োগ ব্যবস্থাপকরা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করার উদ্দেশ্যে সফর শুরু করেছেন এবং তারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আস্থার ভিত্তিতে বাংলাদেশ একটি বিশ্বমানের পুঁজিবাজার গড়ে তুলবে। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থা এর সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রমাণ।
অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার করব্যবস্থাকে সহজ, ন্যায়সংগত এবং করদাতাবান্ধব করার পাশাপাশি করজাল উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভিন্ন খাতে কার্যরত প্রতিষ্ঠানের মার্কেট অংশীদারিত্ব নির্ধারণ করছে, যাতে তাদের প্রকৃত ব্যবসায়িক অবস্থানের ভিত্তিতে আরও ন্যায্য ও আনুপাতিক হারে কর নির্ধারণ করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, 'প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মার্কেট অংশীদারিত্ব নির্ধারণ করা হচ্ছে, সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলছি, করের দায় তাদের মার্কেটের আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যফূর্ন হওয়া উচিত। অতীতে এটি সঠিকভাবে করা হয়নি, কিন্তু বর্তমানে আমরা আরও যৌক্তিক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তুলছি। করজালের বাইরে থাকা ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিক করব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার সহজীকৃত ফ্ল্যাট-রেট কর ব্যবস্থা চালু করছে।'
উল্লেখযোগ্যভাবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় করদাতার আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী এলাকা-ভিত্তিক নির্দিষ্ট হারে কর নির্ধারণ করা হবে। এতে জটিল আয়কর রিটার্ন দাখিল কিংবা দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না বলেও তিনি জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, 'মানুষ নির্ধারিত ফ্ল্যাট-রেট কর পরিশোধ করে একটি রসিদ গ্রহণ করবে। তাদের আয়কর রিটার্ন পূরণ করতে হবে না অথবা কর কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হতে হবে না। নতুন করদাতাদের আনুষ্ঠানিক করব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে এবং স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করতেই এই সহজীকৃত ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।'
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো- এই সহজ ফ্ল্যাট-রেট ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নতুন করদাতাকে করজালের আওতায় আনবেন। করভিত্তি পর্যাপ্ত সম্প্রসারিত হলে পরবর্তীতে দেশের বিদ্যমান কর আইন অনুযায়ী ধাপে ধাপে নিয়মিত করব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন