প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজহারি এবং তাঁর স্বামী হাদি আলী চাট্টাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিঘ্নিত করার অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আদিয়ালা কারাগারে আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এই দম্পতি ওই কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়ার এবং তাঁদের ওপর হামলার পৃথক অভিযোগে আদালত তাঁদের আরও এক বছর ও দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তবে সকল সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
ইমান মাজহারি রাজনৈতিক কর্মীদের গুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে এবং সংখ্যালঘু ও সাংবাদিকদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তাঁদের কারাদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে।
২০২৪ সালের একটি মামলায় এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, তাঁরা একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিপন্ন করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে, তাঁরা বিক্ষোভের আয়োজন করে একটি সড়ক অবরোধ করেছিলেন।
রয়টার্সের প্রকাশিত বিবৃতিতে দম্পতি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা নিজেদের ‘বিবেকের বন্দি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
মাজহারির মা শিরিন মাজহারি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে ও জামাইকে নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথিও সরবরাহ করা হয়নি। উল্লেখ্য, শিরিন মাজহারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মন্ত্রিসভায় মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও সরকারি কৌঁসুলি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বারবার বলেছেন, দেশটির বিচার বিভাগ স্বাধীন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টসংক্রান্ত পৃথক একটি মামলায় গত ২৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তারের পর থেকে মাজহারি ও চাট্টা কারাগারে রয়েছেন। রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়েছিল। পরদিন একটি দায়রা আদালত ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইনে তাঁদের প্রত্যেককে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেন।
তবে ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট ওই সাজা স্থগিত করেন। একই দিন নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মামলায় পুলিশ তাঁদের আবার গ্রেপ্তার করে। মাজহারির মা জানিয়েছেন, নতুন রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন