প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীর তানোর উপজেলার তানোর সদর ও কামারগাঁ ইউনিয়নে (ইউপি) সরকারি খাদ্যগুদামে চলতি মৌসুমের সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হতে চলেছে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কোনো ধরনের মধ্যবর্তীভোগী বা সিন্ডিকেট চক্রের সুযোগ না দিয়ে, সম্পূর্ণ মুক্ত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত এক হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ অভিযান সম্পন্ন হতে চলেছে। অভিযান চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ইতমধ্যে সিংহভাগ সংগ্রহ হয়েছে এবং বাকি টুকু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ক্রয় করা সম্পন্ন হবে।
জানা গেছে, ২০২৬ সালে তানোরে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৪৯ টাকা কেজি দরে অটো ও হাস্কিং মিল থেকে ৪০৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৩০০ মেট্রিক টন গম, এবং ৩৬ টাকা কেজী দরে এক হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৩১ আগস্ট এই কার্যক্রম চলবে।
খাদ্যগুদাম সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী প্রকৃত তালিকা ভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকেই সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এই ধান কেনা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি মণ এক হাজার ৪৪০ টাকা দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে মানসম্মত ধান সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে কোনো আড়তদার বা ব্যবসায়ীর প্রবেশের সুযোগ ছিল না।
উপজেলার আদর্শ ও স্বর্ণপদক প্রাপ্ত কৃষক নুর মোহাম্মদ জানান, এবার স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি নিজেও এবারের সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ধান দিতে পেরেছেন। তানোরের মোহর গ্রামের কৃষক তুষার বলেন, এবারের কামানিজিরও প্রক্রিয়া বিনা ঝামেলায় সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, তার গ্রাম থেকে অনেক কৃষক এবার সরাসরি গুদামে ধান দিতে পেরেছেন।
সম্প্রতি তানোর খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ নিয়ে কিছু মহলে অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ সত্যবর্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি মেলেনি। তিনি একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে কেবল তার নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন, ধান ক্রয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত বা তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে তানোর খাদ্যগুদামের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মামুন জানান, ইতমধ্যে আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সিংহভাগ ধান সংগ্রহ হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। আগামী ৩১ আগস্টের আগেই পুরো ধান কেনা সম্পন্ন হবে। একটি পক্ষ প্রকৃত কৃষকদের কোনো বক্তব্য বা সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মনগড়া অভিযোগ ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে তানোর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আফরোজা খাতুন জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত কৃষক ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কোনো সুযোগ নেই এবং পুরো কার্যক্রমে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকবে।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) পারভিন বলেছেন, তানোরে খাদ্যশস্য ক্রয় অভিযানে কোনো ধরণের অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই। কেউ অবৈধ সুবিধা না পেয়ে এসব অপপ্রচার করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন