প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা সংক্রান্ত খবরের জন্য "গেরুয়া গুন্ডামি" শব্দবন্ধটি ব্যবহারের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদপত্র ‘আনন্দবাজার’ এর সাংবাদিকরা এফআইআর এর মুখোমুখি হয়েছেন। বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট সাংবাদিকদের জরুরি ভিত্তিতে কোনো ধরনের আইনি সুরক্ষা বা স্বস্তি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
দৈনিকটির শিরোনামকে কেন্দ্র করে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাংবাদিকদের পক্ষে উপস্থিত বর্ষীয়ান আইনজীবী এস. এন. মুখার্জি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের কাছে অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।
অভিযুক্ত সাংবাদিকরা আদালতের কাছে এফআইআরগুলো সম্পূর্ণ বাতিল বা রদের আবেদন জানিয়ে শরণাপন্ন হয়েছেন। আইনজীবী মুখার্জি আদালতকে জানান, তার মক্কেল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ঘটনাটির গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করে অবিলম্বে শুনানির আর্জি জানান। আদালতে এস. এন. মুখার্জি বলেন, "বলা হয়েছে যে আমি নাকি সাম্প্রদায়িক অনুভূতিতে উস্কানি দিচ্ছি। এ সংক্রান্ত ৩টি ঘটনা ঘটেছে। আমার জরুরি স্বস্তি প্রয়োজন।"
আদালত উল্লেখ করে যে, এফআইআর বাতিলের আবেদন করা উচিত। মুখার্জি জবাবে বলেন, "আমি এফআইআর বাতিলের জন্যই আর্জি জানাচ্ছি।" তবে আদালত মামলাটিকে জরুরি শুনানির তালিকায় তুলতে রাজি হয়নি এবং জানায় যে সাধারণ বা নিয়ম মাফিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই মামলা বিবেচনা করা হবে। আদালত মন্তব্য করে, "আবেদন জমা দিন, তা উপস্থাপনার নিয়ম অনুসারেই ক্রমানুসারে তালিকায় আসবে।"
আইনজীবী মুখার্জি যখন জরুরি শুনানির জন্য ফের জোর দেন, তখন বেঞ্চ জানায় যে এফআইআর বাতিলের চেয়ে আরও বেশ কয়েকটি পিটিশন ইতিমধ্যেই তাদের কাছে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত বলে, "আমি এখন কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের তারিখ নির্ধারণ করছি না কারণ আমার কাছে এফআইআর বাতিল সংক্রান্ত একাধিক বিষয় বিচারাধীন রয়েছে।" আইনজীবী বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন যে, এটি "একেবারেই রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়" এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে হওয়া বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করতে আদালতকে অনুরোধ জানান। বিচারপতি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি বিশেষভাবে মামলাটি তালিকার শীর্ষে তুলতে পারবেন না।
আদালত আরও বলে, "আমি সময় নির্ধারণ করে দিতে শুরু করতে পারি না। এটা তালিকায় আসবে। খুব বেশি মামলা জমেনি, বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। না হলে আপনি আমাকে মনে করিয়ে দিতে পারেন। আমি এখন জরুরি শুনানির অনুমতি দিচ্ছি না।" পরবর্তীতে পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে আবারও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করার অনুমতি চান আইনজীবী মুখার্জি।
তিনি বলেন, "পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটলে আমাদের বিষয়টি পুনরায় আদালতের সামনে আনার অনুমতি দেওয়া হোক। দুজন জ্যেষ্ঠ নারী সাংবাদিককেও এই মামলায় টানা হয়েছে।" আদালত আইনজীবীদের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং ইঙ্গিত দেয় যে পরবর্তীতে তারা মামলাটি দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিতে পারেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘাতের প্রতিবেদন ও এফআইআর
গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ওপর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার পত্রিকা "গেরুয়া গুন্ডামি" শব্দবন্ধটি ব্যবহার করার পর এই এফআইআরগুলো দায়ের করা হয়। ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের এক সাধারণ সভা চলাকালীন ওই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু করার অভিযোগ তোলে এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের নিয়ে আসার দাবি করে। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
উল্লেখ্য, এবিভিপি জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাথে যুক্ত একটি চরমপন্থী সংগঠন, যা ভারতীয় জনতা পার্টিরও (বিজেপি) অভিভাবক সংস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফআইআরে আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায় এবং প্রধান প্রতিবেদক সোমা মুখার্জিসহ সম্পাদকীয় দলের সদস্যদের নাম রয়েছে।
পত্রিকা অফিসের সামনে বিক্ষোভ
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সাথে যুক্ত একদল লোক কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভকারীরা "গেরুয়া গুন্ডামি" শব্দবন্ধ ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা ভবনের দেয়ালে গেরুয়া রং লেপে দেয় এবং স্লোগান তোলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা যখন ভবনের অংশে রং মাখছিল, তখন কাছেই পুলিশ সদস্যরা দাঁড়িয়ে ছিলেন।
পরবর্তীতে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ভবনের দেয়ালগুলো পুনরায় রং করে নেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন