প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল, ৭ আগস্ট, ২০২৬৯ : প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, সরকার দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ সহজেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
দেশের প্রতি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড নিশ্চিতকরণ, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, এইচপিভি টিকাদান এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ‘ওপেন এসআরপি’ কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে বরিশালে একটি মাল্টি-সেক্টোরাল অ্যাডভোকেসি সভা শুক্রবার সকাল ১০টায় নগরীর হোটেল গ্র্যান্ড পার্কের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।
তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এই অধিকারের বাস্তবায়নের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যক নাগরিকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য নিরাপদে সংরক্ষিত থাকবে এবং দেশের যেকোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা সেবা প্রদান সহজ হবে।
প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শুধুমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্রিক না রেখে ধাপে ধাপে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্দেশ্যে কাজ করছে। কারণ, রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেয়ার চেয়ে বেশি কার্যকর ও সাশ্রয়ী। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি দায়িত্বশীল, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও প্রোঅ্যাকটিভ ভূমিকা পালন করেন, তা হলে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এর জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কার্যকর তদারকি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি অধিকারে বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোতে স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব জনবল ও প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি পরিবারে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যসচেতনতা, টিকাদান, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। জনগণ অচিরেই এর কার্যকর সুফল দেখতে পাবে।
অ্যাডভোকেসি সভায় বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দারের সভাপতিত্বে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং বাংলাদেশ ইউনিসেফ এর হেলথ ম্যানেজার ড. রিয়াদ মাহমুদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন।
এছাড়াও বরিশাল বিভাগের সকল সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ গণমাধ্যমকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন