প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু তিনি এ বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি বর্তমানে ‘শেষ’ হয়ে গেছে।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করে লিখেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে!
চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি কাতারি ও সৌদি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা ঘটে। এর পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে। জবাবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে শুক্রবার (১০ জুলাই) নতুন করে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে টানা চার মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পর, গত মাসে দুই দেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে পৌঁছেছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহের হামলা ও পাল্টা হামলা সেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে খাদের কিনারে নিয়ে এসেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার কাতারের একটি মধ্যস্থতাকারী দল ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম রিপোর্ট করেছে যে দোহার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা আরও জোরদার করার জন্য এই প্রতিনিধি দল ইরান সফর করছে।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক ট্যাঙ্কার চলাচল অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে সম্পন্ন হতো। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান এই জলপথের ওপর অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
গত মাসের অন্তর্বর্তী চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছিল এবং ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ফের ইরানের বিরুদ্ধে ট্যাঙ্কারে হামলার অভিযোগ এনে পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবুও আলোচনা টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য তারা এই কৌশল অবলম্বন করছে।
এদিকে, ওয়াশিংটন বলেছে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং এই জলপথের ওপর ইরানের একক কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অন্যদিকে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, প্রণালিটি কেবল তাদের শর্ত সাপেক্ষে খোলা থাকবে এবং যেকোনো মার্কিন হস্তক্ষেপের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়া হবে। শুক্রবার জাতিসংঘের নৌসংস্থা তেহরানের এই প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা করেছে।
আরও পড়ুন: মোদির একের পর এক বিদেশি পুরস্কার পাওয়াতে ভারতের লাভ কী?
সংঘাতের আবহের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ইরানে দেশটির নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে খামেনি নিহত হন। শুক্রবার সূর্যাস্তের নামাজের পর কোয়ম শহরে তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে একটি শোকসভার আয়োজন করা হয়। কিন্তু বাবার মৃত্যুর সময় আহত হওয়া মোজতবা খামেনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি, যা ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং এর ফলে জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। চলতি বছরের শেষের দিকে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের অসন্তোষ ও উচ্চ গ্যাস বিলের কারণে রিপাবলিকান শিবিরে অস্বস্তি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন