প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সার বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, সংঘাতের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সারবাহী জাহাজের চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় এসে পৌঁছেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া এবং ডিএপি সারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের অন্তত ১৮টি দেশ গুরুতর আমদানি ঝুঁকিতে পড়েছে।
শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক সার বাণিজ্যের জন্যও হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই নৌপথে সার পরিবহন কার্যত থমকে যায়। এর ফলস্বরূপ বৈশ্বিক সার সরবরাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
ডব্লিউটিওর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরের বাইরে সারবাহী জাহাজের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি জুন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। জুলাইয়ের শুরুতে কিছু চালান চলাচল শুরু হলেও তা এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। এর প্রভাব স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক সারের বাজারে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে প্রতি টন ইউরিয়ার দাম ছিল প্রায় ৪০০ ডলার। কিন্তু এপ্রিল মাসে সেটি দ্বিগুণের বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫০ ডলারে। যদিও জুনে কিছুটা কমে প্রতি টন ইউরিয়ার দাম ৪৫৩ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে, ডিএপি বা ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট সারের দাম প্রতি টনে ৫৮০ ডলার থেকে বেড়ে ৭৭০ ডলারে পৌছায়।
ডব্লিউটিও জানিয়েছে, বিশ্বের মোট নাইট্রোজেনভিত্তিক সার রফতানির মধ্যে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ফসফেট সার রফতানির ১১ দশমিক ৪ শতাংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। আর এসব সারের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো এশিয়া। বিশ্বের নাইট্রোজেনভিত্তিক সারের ৪০ শতাংশ এবং ফসফেট সারের ৪৮ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলো আমদানি করে। এর মধ্যে ভারতের মোট নাইট্রোজেনভিত্তিক সার আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং থাইল্যান্ডের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ আসে এই অঞ্চল থেকে।
ডব্লিউটিও’র বিশ্লেষণ অনুসারে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সার আমদানি করা ৮১টি দেশের মধ্যে ১৮টি দেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই তালিকার মধ্যে নেপাল ও শ্রীলঙ্কাও অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সতর্কবার্তা হলো, সার সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটালে কৃষি উৎপাদন কমে যেতে পারে। এর ফলে খাদ্যপণ্যের দামেও প্রভাব পড়বে, পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন