প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরীকে জিম্মি করে ধর্মান্তরিত, জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মানববন্ধনে স্থানীয় ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং আলেম-ওলামারা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধন থেকে মামলার প্রধান আসামি লক্ষ্মীকান্ত বাউরীসহ পলাতক অন্য আসামিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিনকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন তাঁরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শমশেরনগর বাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ইমাম-মুয়াজ্জিন ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি মাওলানা হেলাল আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনিছুল ইসলাম চৌধুরী শাকেরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্থানীয় আলেম-ওলামারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, "১৬ বছর বয়সী একজন কিশোরীকে জিম্মি করে ধর্মান্তরিত, জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্ষণের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।" তাঁরা প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেন যাতে জড়িত ব্যক্তিরা আইনের আওতার বাইরে না থাকে। বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার প্রধান আসামিসহ পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
তাঁরা আরো বলেন, "মামলার তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করতে হবে।" পাশাপাশি ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের ডবলছড়া চা বাগান এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পর কিশোরীকে জিম্মি করে রাখা হয়। এসময় তাকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত ও বিয়ে দেওয়া হয় এবং ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর একই এলাকার মৃত রবি চন্দ্র বাউরীর ছেলে লক্ষ্মীকান্ত বাউরীর বাড়ি থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় লক্ষ্মীকান্ত বাউরীকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কমর উদ্দিন একজনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে খুবই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন