প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় প্রবাসীর স্ত্রী হিসাবে পরিচিত শামিমা খাতুনসহ একই পরিবারের ৪ জনকে মারধর এবং কুপিয়ে জখম করার একটি অভিযোগ সংবাদে উঠে এসেছে। রবিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মাঝপাড়া গোরস্থান এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। আহতদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছেন সৌদি প্রবাসী আব্দুর রাকিবের স্ত্রী শামিমা খাতুন, তার বাবা আব্দুস সামাদ, মা খাইরুন নেসা এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জলি বেগম।
এই ঘটনার পর আহত জলি বেগম বাদি হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী এবং আহতদের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মাঝপাড়া এলাকায় বাপ্পি নামের এক ব্যক্তি একটি দীর্ঘ সময় ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। রবিবার বিকেলে শামিমা খাতুন তাকে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করেন এবং প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ী বাপ্পির নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, মিম এবং নাসিমা বেগম দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিতভাবে শামিমার ওপর হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে আসে।
হামলার সময় শামিমার চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে তার বাবা, মা ও ভাইয়ের স্ত্রী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদেরও এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহত চারজনকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তাদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রাত ৮ টার দিকে আবারও বাপ্পির নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, মিম ও নাসিমা বেগমসহ ৮-১০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবাসীর স্ত্রী শামিমা খাতুনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির দরজা এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়, এমনটাই অভিযোগ করেছে হামলার শিকার পরিবার।
আহত শামিমা খাতুন বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করে আসছে। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করায় তারা আমার ওপর হামলা করেছে। এমনকি মারধরের সময়কার ভিডিও ধারণ করে মোবাইল বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখলেও জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় এবং শ্লীলতাহানি করে। মারধরের পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সময় লোকজন নিয়ে মারার জন্য জরুরি বিভাগে আসে তারা। পরে পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছালে হামলাকারীরা চলে যায় এবং আমাদের চিকিৎসা হয়। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
এনিয়ে কথা বলতে বাপ্পি এবং নুরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে কল দিলে তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একরামুল হোসাইন জানান, পূর্ব শত্রুতার কারণে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে হামলা, মারধর এবং ভাঙচুরের ঘটনা কি নিয়ে তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন